কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভাত খাওয়ার কথা বলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ঢেকিপাড়া সাঁওতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত দুজনই পরস্পরের চাচাতো ভাই-বোন এবং একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ওই স্কুলছাত্রীর মা মারা যান। এরপর থেকে সে তার দাদির কাছে বসবাস করছিল।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রীর বাবা সাঁওতা ব্রিজের ওপর থেকে মেয়েকে দেওয়ার জন্য ১০ টাকা দেন। টাকা বাড়িতে পৌঁছে দিতে তিনি ওই কিশোরকে সঙ্গে পাঠান। ওই সময় ছাত্রী বাড়ির নিজ ঘরে বসে ভাত খাচ্ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে পৌঁছানোর পর ভাত খাওয়ার কথা বলে কিশোরটি ছাত্রীকে খাটের ওপর নিয়ে যায়। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে সোমবার বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে তারা ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর তার বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
ওই মামলার পর মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, মেয়েকে ১০ টাকা দেওয়ার জন্য ওই কিশোরকে বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন তিনি। তখন তার মেয়ে ভাত খাচ্ছিল। ভাত খাওয়ার কথা বলে তার মেয়ের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে তিনি মামলা করেছেন।
তবে ঘটনার পর পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


