লোগো
Advertisement

দৌলতপুরে কবর থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
Advertisement

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিজেকে পীর দাবি করা আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের মরদেহ স্থানীয় একটি কবরস্থান থেকে তুলে তার দরবার প্রাঙ্গণে নতুন করে দাফনের অভিযোগ উঠেছে ভক্তদের বিরুদ্ধে।

স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি কবরস্থান থেকে শামিমের মরদেহ তুলে নেওয়া হয়। পরে ‘শামিমি বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত দরবার প্রাঙ্গণে সেটি পুনরায় দাফন করা হয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।

নিহত শামিমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে তারা স্থানীয় কবরস্থানে গিয়ে দেখেন, শামিমের কবর খোঁড়া অবস্থায় রয়েছে। মরদেহ তুলে নেওয়ার আলামতও পাওয়া যায়। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে সেখানে নতুন একটি কবর খোঁড়া এবং খাপাচি দিয়ে মাটি চাপা অবস্থায় দেখতে পান তারা।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। দরবার প্রাঙ্গণের নতুন কবরের ভেতরে কঙ্কালসদৃশ কিছু দেখা যাচ্ছে। তবে সেটি শামিমের মরদেহের অংশ কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

শামিমের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

এদিকে কবরস্থান থেকে শামিমের মরদেহ সরিয়ে দরবার প্রাঙ্গণে দাফনের অভিযোগে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...