লোগো
Advertisement

আলমডাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ, ‘বড় হুজুর’ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৬ এএম
Advertisement

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার ‘বড় হুজুর’ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের চরপাড়া জামিয়া ইসলামীয়া কওমি মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জামজামি পুলিশ ক্যাম্প ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরপাড়া জামিয়া ইসলামীয়া কওমি মাদ্রাসায় পুরুষ ও মহিলা শাখার পাশাপাশি আবাসিক ও কিন্ডারগার্টেন শাখা রয়েছে। মহিলা আবাসিক শাখায় শতাধিক ছাত্রী পড়াশোনা করে।

অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় ‘বড় হুজুর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। তার স্ত্রী মাহফুজা খাতুনও মাদ্রাসার মহিলা শাখায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তারা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের একটি কক্ষে বসবাস করেন।

ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আবুল কালাম আজাদ ছাত্রীর বাবাকে ফোন করে মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

পরে মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় সে তার বাবা-মাকে জানায়, মাদ্রাসার বড় হুজুর তার সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছেন।

ছাত্রীর বাবা বলেন, সকালে বড় হুজুর আমাকে ফোন করে জানান, আমার মেয়ে বেয়াদব হয়ে গেছে এবং তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সে আমার ও তার মায়ের কাছে হুজুরের বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ করে।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে আবুল কালাম আজাদকে আটক করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করেন।

খবর পেয়ে জামজামি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলমডাঙ্গা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে তার বাবা-মা আলমডাঙ্গা থানায় গেছেন বলে জানা গেছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, চরপাড়া গ্রামের একটি মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বড় হুজুরকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...