ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে লুৎফর রহমানের লাঠির আঘাতে রবিউল ইসলাম (৬২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত রবিউল অভিযুক্ত লুৎফর রহমানের মামাশ্বশুর। ঘটনার পর থেকে লুৎফর পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার যাদবপুর মাঝেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত আমিন উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে ফুটবল খেলা নিয়ে রবিউল ইসলামের ছেলে সিফাত ইয়ামিন জিহাদ (১০) ও প্রতিবেশী লুৎফর রহমানের ছেলে সোহানুর রহমান সোহানের (১৩) মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার জেরে দুপুরে বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে সিফাতকে মারতে ধাওয়া করেন লুৎফর রহমান।
বিষয়টি জানতে পেরে রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলে লুৎফরের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে লুৎফর হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে রবিউলের ঘাড় ও পিঠে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে রবিউল গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিকভাবে মাথায় পানি দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে যাদবপুর বাজারের এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল ইসলাম বলেন, লাঠির আঘাতের পর রবিউল গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত লুৎফর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সামান্য বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লুৎফর রহমান আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


