লোগো
Advertisement

ব্ল্যাক কফি পানে মিলতে পারে যেসব স্বাস্থ্য উপকার

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
Advertisement

চিনি, দুধ কিংবা ক্রিম ছাড়া কফি অনেকের কাছেই প্রথমে বেশ তেতো মনে হতে পারে। তবে ধীরে ধীরে এই স্বাদের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ব্ল্যাক কফি হতে পারে প্রতিদিনের পানীয় তালিকার একটি সহজ সংযোজন। কম ক্যালোরির পাশাপাশি এতে থাকা ক্যাফেইন ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে লিভারের স্বাস্থ্য, শারীরিক কর্মক্ষমতা ও বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে কফিকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা ওজন কমানোর একমাত্র উপায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ক্যালোরি কম, চিনি নেই

চিনি, দুধ বা ক্রিম ছাড়া এক কাপ ব্ল্যাক কফিতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। ফলে কফিতে বাড়তি চিনি ও ফ্যাট যোগ না করে পান করতে চাইলে ব্ল্যাক কফি সহজ একটি বিকল্প হতে পারে।

বিশেষ করে যারা খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমাতে চান, তাদের জন্য চিনি ছাড়া কফি তুলনামূলক সুবিধাজনক।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

কফির বীজে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে কাজ করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে কফির সম্ভাব্য উপকার শুধু ক্যাফেইনের ওপর নির্ভর করে না।

লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে

কফি পান এবং লিভারের কিছু রোগের ঝুঁকি কমার মধ্যে সম্পর্কের কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা যাওয়ার তথ্যও রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংকের ৩ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি গবেষণায় বেশি কফি পানকারীদের মধ্যে সিরোসিস, লিভার ক্যানসার ও লিভার-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গেঁটেবাতের ঝুঁকি কমাতে পারে

কিছু গবেষণায় নিয়মিত কফি পান এবং রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের তুলনামূলক কম মাত্রার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর ফলে হাইপারইউরিসেমিয়া বা গেঁটেবাতের ঝুঁকি কমাতে কফির কিছু ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

তবে গেঁটেবাতের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে কফির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এ ধরনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই প্রয়োজন।

ব্যায়ামের আগে বাড়াতে পারে কর্মক্ষমতা

ব্যায়াম বা শরীরচর্চার আগে এক কাপ ব্ল্যাক কফি অনেকের সতর্কতা ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখে ক্যাফেইন।

ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি কম অনুভব করতে এবং ব্যায়ামের সময় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর প্রভাব ব্যক্তি ও ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার ওপর নির্ভর করে।

মেটাবলিজমে সাময়িক প্রভাব

কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরের বিপাকীয় হার সাময়িকভাবে বাড়াতে পারে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সামান্য সহায়ক ভূমিকা থাকতে পারে। তবে শুধু ব্ল্যাক কফি পান করলেই ওজন কমবে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কফির স্বাভাবিক স্বাদও উপভোগ করা যায়

চিনি ও দুধ ছাড়া কফি পান করলে কফির নিজস্ব ঘ্রাণ ও স্বাদ স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। শুরুতে তেতো লাগলেও নিয়মিত পান করলে অনেকেই এই স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে যান।

যারা নতুন করে ব্ল্যাক কফি শুরু করতে চান, তারা তুলনামূলক মৃদু স্বাদের কফি দিয়ে শুরু করতে পারেন। ফ্রেঞ্চ প্রেস, মোকা পট কিংবা কোল্ড ব্রু পদ্ধতিতেও কফি তৈরি করে পান করা যায়।

অতিরিক্ত কফি পানেও সমস্যা হতে পারে

ব্ল্যাক কফির কিছু সম্ভাব্য উপকার থাকলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ শরীরের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এতে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা কিংবা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তাই ব্যক্তিগত সহনশীলতা বিবেচনায় রেখে পরিমিত পরিমাণে কফি পান করাই ভালো।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...