লোগো
Advertisement

আট মাস পর যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
Advertisement

গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানায় ফের সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়।
কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক জানান, প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ পাওয়ার পর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও চাপ কম থাকায় উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, নিরবচ্ছিন্নভাবে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য কারখানায় প্রায় ৪৬ এমএমসিএফ গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। তবে ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ চাপ থাকলেও উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ২৭ থেকে ২৮ এমএমসিএফ চাপ সরবরাহ করায় কারখানাটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও উৎপাদন শুরু করা যায়নি।
কারখানা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বর্তমানে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক থাকলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর কারখানা চালু হওয়ায় আশপাশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। কারখানাকেন্দ্রিক হোটেল, পরিবহনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী বিনয় দত্ত বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। কারখানা চালু থাকলে শ্রমিক-কর্মচারীদের আনাগোনায় হোটেলে বেচাকেনা বাড়ে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ঋণ করে সংসার চালাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্রাকচালক শামীম মিয়া জানান, কারখানা চালু থাকলে মাসে ২০ থেকে ২৫টি পর্যন্ত ভাড়া পাওয়া যায়। কিন্তু কারখানা বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাসে দু-তিনটির বেশি ভাড়া পাওয়া যায়নি।
যমুনা সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় অনেক শ্রমিক-কর্মচারী আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। উৎপাদন অব্যাহত থাকলে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
কারখানাটিতে প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন হয়ে আসছিল।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আওতাধীন এই কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করা হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন সম্ভব। এতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মুনাফা হতে পারে। অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখাসহ অন্যান্য কাজে প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
কারখানার অ্যামোনিয়া ও ইউটিলিটি বিভাগের প্রধান ফজলুল হক বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন আবার শুরু হয়েছে। বর্তমানে কারখানার সব ইউনিট সচল রয়েছে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...