লোগো
Advertisement

মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপসের কথা জানিয়ে জামিন চাইলেন এমপি নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
Advertisement

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে নিহত মরিয়মের পরিবারের আপস হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। এ সময় দুই আসামির জামিনও চাওয়া হয়।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আপসের শর্তে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। তার দাবি, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। এরই মধ্যে বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসা হয়েছে এবং শুনানিতে নিহত মরিয়মের বাবা উপস্থিত থেকে দুই আসামির জামিনে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।
শুনানি শেষে আদালত মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত জুনে ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। ২০ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। ওই রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এ মামলার অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...