২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা হবে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। এতে জানানো হয়, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন আবেদনকারীদের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
রাত ৮টার পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনে নিজেদের ভর্তির ফল জানতে পারবেন। ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়নের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
ভর্তি নিশ্চায়নের শেষ সময় ১৮ সেপ্টেম্বর
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে। একাদশ শ্রেণির মূল ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সবকিছু ঠিক থাকলে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে নতুন শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ক্লাস।
এসএসসি ফলের ভিত্তিতেই ভর্তি
এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হবে।
গত ২৪ আগস্ট একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড। নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তীতে সুযোগ দেওয়া হয়।
৭ শতাংশ কোটা
নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণির মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
অবশিষ্ট ৭ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে ভর্তির সময় মূল কাগজপত্র দেখাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সনদ যাচাইয়ের পর ভর্তি সম্পন্ন করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে এসব আসন খালি রাখা হবে না। সেক্ষেত্রে মেধাতালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কোটায় আবেদনকারী বেশি হলে সংশ্লিষ্ট কোটার প্রার্থীদের মধ্য থেকেই মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই কোটাব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।


