লোগো
Advertisement

চুয়াডাঙ্গায় শেষ হলো জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
Advertisement

উৎসবমুখর পরিবেশে চুয়াডাঙ্গায় শেষ হয়েছে ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। দুই দিনব্যাপী জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার বিকেলে শহরের টাউন ফুটবল মাঠে।

বিকেল ৪টায় আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থী ও দলগুলোর হাতে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা।

বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। জেলার সদর, দামুড়হুদা, জীবননগর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। ফুটবল, হ্যান্ডবল, কাবাডি, দাবা, সাঁতারসহ বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা।

সমাপনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। অনুষ্ঠানের আগে জাতীয় খেলা কাবাডির ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করতে প্রতিযোগিতার শেষ দিকে রাখা হয় কাবাডির ফাইনাল ম্যাচটি।

চুয়াডাঙ্গা আদর্শ বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অনেক। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজেদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। খেলাধুলা সেই সুযোগ তৈরির অন্যতম মাধ্যম। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে যারা বিজয়ী হয়েছে, তারা পরবর্তী পর্যায়ে বরিশাল অথবা খুলনায় প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় খেলার সুযোগ পাবে। এ সময় তিনি চুয়াডাঙ্গার তরুণ খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যের প্রশংসা করেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিযোগিতার দলীয় ইভেন্টে বালক হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয়েছে দামুড়হুদা সরকারি পাইলট হাইস্কুল। বালিকা হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এ বিভাগে রানার্সআপ হয়েছে দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

বালক কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গিরিশনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে বালিকা কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সদর উপজেলার রাহেলা খাতুন গার্লস একাডেমি। রানার্সআপ হয়েছে দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এ ছাড়া বালক ও বালিকাদের ১০০ মিটার মুক্ত সাঁতার, ৫০ মিটার চিৎ সাঁতার, ৫০ মিটার প্রজাপতি সাঁতার, মধ্যম ৪×৫০ মিটার মিডলে রিলে ও দাবাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে জেলার চার উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এসব ইভেন্টেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গে বিজয়ী হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ রহমান, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মিকাঈল হোসেন, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সেলিম রেজা, চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ জান্নাত আলী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব বিপুল হাসান হ্যাজিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

পুরস্কার বিতরণ ও বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ের আয়োজন।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...