কালীগঞ্জে দুই বাল্যবিয়ে বন্ধ : গোপনে বিয়ে দেয়ায় অভিভাবককে জরিমানা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে দুটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিয়ে গোপনে সম্পন্ন করায় তার অভিভাবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর রাতে উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বড় ঘিঘাটি ও বাকুলিয়া গ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ দুটি বন্ধ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বড় ঘিঘাটি গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করা হয়। তবে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরবর্তী সময়ে গোপনে ওই ছাত্রীর বিয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি জানার পর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী তার অভিভাবককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এদিকে, একই ইউনিয়নের বাকুলিয়া গ্রামেও অভিযান চালিয়ে আরেকটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি শিশুদের মৌলিক অধিকার, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; এ জন্য সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাল্যবিবাহ নির্মূল করা সম্ভব। প্রতিটি শিশুর শৈশব, শিক্ষা ও স্বপ্ন সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন হওয়ার এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

