লোগো
Advertisement

পিত্তথলির অপারেশনের সময় বিএনপি নেতার মৃত্যু: উপশম নার্সিং হোমে ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০২ এএম
Advertisement

চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত উপশম নার্সিং হোমে পিত্তথলির (গলব্লাডার) অপারেশনের সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বিএনপি নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ স্বজন, এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা নার্সিং হোমে ভাঙচুর চালান এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

নিহত ব্যক্তি রবগুল (বয়স ৫০ ঊর্ধ্ব), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৭ নম্বর পদ্মবিলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের সুবদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

অপারেশন থিয়েটারেই মৃত্যু

পরিবারের সদস্যদের দাবি, পিত্তথলিতে পাথরজনিত সমস্যার চিকিৎসার জন্য রবগুলকে উপশম নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। সেখানে সার্জন ডা. মোহাম্মদ এহসানুল হক তন্ময় তার পিত্তথলির অস্ত্রোপচার শুরু করেন। অপারেশনের সময়ই রবগুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারি শুরু হয় এবং মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাদের দাবি, ভুল চিকিৎসা, অপচিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকের গাফিলতির কারণেই রবগুলের মৃত্যু হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর অবস্থা ঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে অপারেশন করা হয়েছে এবং অপারেশনের সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় অবহেলা ছিল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নার্সিং হোমে ভাঙচুর, হাসপাতাল সড়কে উত্তেজনা

রবগুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত মানুষ উপশম নার্সিং হোমের সামনে জড়ো হন। বিক্ষুব্ধ লোকজন নার্সিং হোমের ভেতর ও বাইরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হাসপাতাল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তদন্তের দাবি

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা দাবি করেছেন, উপশম নার্সিং হোমে চিকিৎসা নিয়ে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। তারা রবগুলের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নার্সিং হোমের চিকিৎসা কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উপশম নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ এহসানুল হক তন্ময়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চুয়াডাঙ্গা ডট নেট বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তদন্ত ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ জানা গেলে এ প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।

দ্রষ্টব্য: পরিবারের অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসকের গাফিলতির বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষ।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...