চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রকাশ্য দিবালোকে মোটরসাইকেলে এসে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক ভ্যানচালকের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন পাখি ভ্যান চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভ্যানটি হারানোর পর প্রতিবন্ধী সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে ভ্যানচালক আসাদুল হকের। তার দাবি, ভ্যান চুরির পর থেকে পরিবারের চুলায় আগুন পর্যন্ত জ্বলেনি।
ভুক্তভোগী আসাদুল হক আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি গ্রামের মালিথাপাড়ার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।
আসাদুল হক জানান, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি তার পাখি ভ্যানটি নিয়ে চলে যায় বলে তিনি ধারণা করছেন। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে। পরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির কোনো সন্ধান পাননি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই ভ্যান চালিয়েই প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়েই সংসার চলে। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে জীবন প্রতিবন্ধী। তার ওষুধ, সংসারের খাবার—সবকিছুই এই ভ্যানের আয়ের ওপর নির্ভর করত। এখন ভ্যান নেই, আয়ও নেই। গতকাল থেকে আমাদের ঘরে রান্না হয়নি।”
জানা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২১ সালে ‘পজেটিভ আলমডাঙ্গা’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আসাদুল হককে পাখি ভ্যানটি উপহার দেয়। সেই ভ্যান চালিয়ে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। গত কয়েক বছর ধরে ওই ভ্যানই ছিল তার পরিবারের জীবিকার একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় দিনের বেলায় এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, প্রকাশ্যে এভাবে একটি ভ্যান চুরি হয়ে যাওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও প্রশ্ন তুলছে।
ভ্যানটি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আলমডাঙ্গা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন আসাদুল হক।
এলাকাবাসীর দাবি, অসহায় এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম দ্রুত উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং প্রতিবন্ধী সন্তানসহ পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


