সিংহীমারী গ্রামে শিশুর কণ্ঠে লোকসংস্কৃতি বাঁচানোর লড়াই

গুরুরা শেখান স্বেচ্ছাশ্রমে
সেবালয়ের কার্যক্রমের মূল ভিত্তি স্থানীয় গুরুদের আন্তরিকতা ও স্বেচ্ছাশ্রম। গুরু নিমাই চন্দ্র ও নির্মল চন্দ্র মনে করেন, লোকসংগীত শেখানোর মধ্য দিয়ে শিশুদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সম্ভব। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের লোকসংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের হাতে ঐতিহ্যের দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।
তবে এই উদ্যোগ চালিয়ে যেতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে সংগঠকদের। বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ ও মেরামত, প্রশিক্ষকদের সম্মানী, যাতায়াত এবং গুরুগৃহগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজন নিয়মিত অর্থায়ন। কিন্তু স্থায়ী অর্থের সংস্থান না থাকায় অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
‘মায়ের তরী’র অন্যতম সংগঠক ইউসুফ আলমগীর মনে করেন, লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণের দায়িত্ব শুধু শিল্পী বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের নয়; রাষ্ট্র ও সমাজেরও। তাঁর ভাষায়, লোকসংস্কৃতিকে শুধু উৎসব কিংবা বিশেষ দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুদের নিয়মিত শিক্ষার অংশ করতে হবে। নদীভাঙনে ঘর হারানো মানুষও গানের মধ্যে নিজের শিকড় খুঁজে পান। সেই শিকড় নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে ‘মায়ের তরী’।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সুজন কুমার বেদ বলেন, নয়টি গুরুগৃহকে সমন্বিত সাংস্কৃতিক শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনতে পারলে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন স্থায়ী প্রশিক্ষণকেন্দ্র, বাদ্যযন্ত্র, প্রশিক্ষকদের সম্মানী ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন তাঁরা।

