সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ যুবকের৮ বছর পর চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ২৮ নভেম্বরএলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে: জামায়াত২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২২ দিনবরগুনায় বিএনপি নেতার সদস্য পদ স্থগিতটিএমজিবির নতুন সভাপতি মাসুদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিতব্রাজিল-উরুগুয়েকে আতিথেয়তা দিয়ে ভারতের ক্ষতি ১১২ কোটিমাদকাসক্ত ছেলের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মা, প্রাণ বাঁচাতে ঘুরছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারেভার্চুয়াল শুনানিতে তিন সপ্তাহে জামিন পেল ৫২ শিশু‘মুক্তিযুদ্ধের পর রক্ষীবাহিনীকে আওয়ামী লীগ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছিল’
বিজ্ঞাপন

ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দলে বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দলে বড় পরিবর্তন

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই বড় পরিবর্তন আনল অস্ট্রেলিয়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডকে। অভিজ্ঞ এই তিন পেসারের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়েছেন একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার। দুই সংস্করণেই অধিনায়ক থাকছেন মিচেল মার্শ। মূলত ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি ও সামনে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের কথা বিবেচনায় রেখে দলে এমন পরিবর্তন এনেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।

সোমবার (২ নভেম্বর) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য পৃথক ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী ১৩ নভেম্বর পার্থে প্রথম ওয়ানডে দিয়ে শুরু হবে দুই দলের লড়াই। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে ২১ নভেম্বর। সব মিলিয়ে আট ম্যাচের সিরিজ শেষ হবে ২ ডিসেম্বর।

অস্ট্রেলিয়ার দল ঘোষণায় সবচেয়ে বড় চমক অভিজ্ঞ তিন পেসারের অনুপস্থিতি। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলেছিলেন কামিন্স, স্টার্ক ও হ্যাজলউড। সেই সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কঠিন সেই সফরের পর তিনজনকেই বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাচকরা।

অবশ্য স্টার্ক আগেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। ফলে তার ক্ষেত্রে বিশ্রামের সিদ্ধান্তটি প্রযোজ্য ওয়ানডে সিরিজের জন্য। অন্যদিকে কামিন্স ও হ্যাজলউড খেলবেন না দুই সংস্করণের কোনো ম্যাচেই।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ অস্ট্রেলিয়ার সামনের ব্যস্ত টেস্ট সূচি। আগামী ৯ ডিসেম্বর পার্থে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হবে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এরপর ভারতে পাঁচ ম্যাচের বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি খেলতে যাবে অস্ট্রেলিয়া। সব মিলিয়ে ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া কয়েক মাসে দশটি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে তাদের।

দল ঘোষণার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি জানান, ক্রিকেটারদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সতেজ রাখাই এখন অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে তিন সংস্করণে খেলা ক্রিকেটারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

বেইলি বলেন, ‘আমরা এখন অত্যন্ত ব্যস্ত একটি সূচির মধ্যে আছি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে ক্রিকেটারদের সরাসরি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে হচ্ছে। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় খুবই সীমিত।’

অভিজ্ঞদের বিশ্রামের সুযোগে তরুণ ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন ২১ বছর বয়সী পেসার মাহলি বেয়ার্ডম্যান, ২০ বছর বয়সী ব্যাটার অলিভার পিক এবং অলরাউন্ডার জ্যাক এডওয়ার্ডস ও লিয়াম স্কট।

বেয়ার্ডম্যানকে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ পেসার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও পিঠের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। চোট কাটিয়ে ফিরে গত অক্টোবরে ভারতে অস্ট্রেলিয়া 'এ' দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন।

পুদুচেরিতে এক ম্যাচে মাত্র ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন এই তরুণ পেসার। এমন পারফরম্যান্সের পর তাকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি উভয় দলেই রেখেছেন নির্বাচকরা।

বেয়ার্ডম্যানকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রধান নির্বাচক বেইলি। তার মতে, তরুণ এই পেসার ভবিষ্যতে তিন সংস্করণেই অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পারেন।

বেইলি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া এ দলের হয়ে বেয়ার্ডম্যানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে তাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। আগামী বছরগুলোতে তিন সংস্করণের ক্রিকেটার হিসেবে তার উন্নতির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’

ওয়ানডে দলে জায়গা পাওয়া অলিভার পিকও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটারদের একজন। গত শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া এই ব্যাটার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচের শেষ ওভারে ২৪ রান তুলে নির্বাচকদের নজর কেড়েছিলেন। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গে এক ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন জ্যাক এডওয়ার্ডস।

ওয়ানডে দলে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাভিস হেড, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, জশ ইংলিস, ম্যাথু রেনশ ও কুপার কনোলি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলা এই ছয় ক্রিকেটারকে অবশ্য টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

তাই টি-টোয়েন্টি দলে পরিবর্তন আরও বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার ল্যাকলান শ ও স্যাম হার্পার। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন দুজনই।

বিশেষ করে হার্পারের সাম্প্রতিক ফর্ম নির্বাচকদের সন্তুষ্ট করেছে। গত মৌসুমে বিগ ব্যাশ লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে শয়ের।

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...