দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে জাতীয় নারী শক্তি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, অপরাধ ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে তরুণদের একটি অংশ মাদক, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষ্য, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের শিকার হচ্ছেন। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন জাতীয় নারী শক্তির নেতারা।
বক্তারা দাবি করেন, মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার মিল নেই। তাদের মতে, মানুষ যখন ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও সহিংসতার মতো ঘটনায় উদ্বিগ্ন, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক বা উন্নত—এমন বক্তব্য বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।
এ সময় বক্তারা রূপক অর্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে ‘কাঠের চশমা’ খুলে মাঠপর্যায়ে এসে মানুষের বাস্তব অবস্থা দেখার আহ্বান জানান।
মৌলিক সেবা নিয়েও ক্ষোভ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক সেবার সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনটির নেতারা।
তারা বলেন, একদিকে নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষ চাপে রয়েছেন। ফলে সামগ্রিকভাবে জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে।
কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
মানববন্ধন থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
কর্মসূচিতে জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব শাহরিন ইরা, কেন্দ্রীয় সদস্য দিলারা খানমসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
