মেহেরপুরের গাংনীতে দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককে মারধর, একটি কক্ষে আটকে রাখা এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে করা মামলার এজাহারভুক্ত দুই শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর শহরের কোর্ট রোডের নিমতলা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। গাংনী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
আটক দুই শিক্ষক হলেন কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব ও রফিকুজ্জামান বাবর আলী। তারা দুজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ জানায়, এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা থেকে মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি খায়রুজ্জামান ওরফে আকামতকে আটক করা হয়। ফলে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পরীক্ষাকেন্দ্রে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলছিল।
এ সময় পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করতে যান নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি ও দৈনিক খবরের কাগজের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি তারিক।
অভিযোগ করা হয়েছে, দৃশ্য ধারণের একপর্যায়ে কয়েকজন তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। পরে দুই সাংবাদিকের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর আহত দুই সাংবাদিককে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর তারা গাংনী থানায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে মামলা করেন।
দুই শিক্ষকসহ ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
এ ঘটনায় কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষকসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে গাংনী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৪৬/২৬।
মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৭৯, ১১৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা হওয়ার পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাতনামা এক আসামিকে আটক করা হয়। এরপর রোববার যৌথ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই শিক্ষককে আটক করা হয়।
গাংনী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে প্রত্যেকের কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ
দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মেহেরপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ নয়; এটি স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।