কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীসংলগ্ন পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে নতুন করে কারিগরি সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বারবার সংশোধন ও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পরও প্রকল্পটি প্রত্যাশিত সুফল না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পের স্থানীয় সুবিধাভোগী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নাফ নদীর পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্পটি বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় প্রকল্পটি একাধিকবার সংশোধন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তাই আগের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর না করে নতুন করে কারিগরি যাচাইয়ের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, প্রকল্পটির নতুন সমীক্ষায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কারিগরি সহযোগিতা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে। সমীক্ষার ফলাফল ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকল্পটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী পোল্ডারসমূহের (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮) পুনর্বাসন প্রকল্প’-এর দ্বিতীয় সংশোধনকে কেন্দ্র করে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রকল্পের ব্যয় ও একাধিকবার সংশোধনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০১৭, ২০২২ ও ২০২৫ সালে প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি জনগণ এর সুফল না পায়, তাহলে এতবার সংশোধন ও অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের স্বার্থ সরাসরি জড়িত। তাই সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
এদিকে টেকনাফের ৬১ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ককে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিভিন্ন জটিলতা থাকলেও জনস্বার্থে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করা প্রয়োজন। সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত সড়ক চালু হলে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত দিয়ে নতুন করে কোনো অনুপ্রবেশ সরকার চায় না। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত সড়ক এবং শাহপরীর দ্বীপের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বেড়িবাঁধের অবস্থা, নদীভাঙন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজ নেন।
পরিদর্শন শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে টেকনাফ ত্যাগ করেন।
নাফ নদীর পোল্ডার প্রকল্প শেষ করতে নতুন কারিগরি সমীক্ষার উদ্যোগ
সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন


