লোগো
Advertisement

টাঙ্গাইলে সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই: মামলা, সাব-ঠিকাদার গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম
Advertisement

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকার নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই করার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মূল ঠিকাদারকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতু এলাকা থেকে শাহ আলমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার বাদী হয়েছেন বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান। মামলায় ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদ অফিস হয়ে মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, সেতুর মূল কাজের আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রি-ওয়ার্ক সম্পন্ন করে পরে ফুটপাত বা ওয়াকওয়ের স্ল্যাব ঢালাই করার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সাব-ঠিকাদার এলজিইডির কর্মকর্তাদের অগোচরে রাতের আঁধারে গোপনে ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন, যা নির্মাণবিধির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং গুরুতর অনিয়ম।

তার ভাষ্য, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং এলজিইডির সুনাম ও জনস্বার্থ রক্ষায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেলে এলজিইডির ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে এক কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এলজিইডি থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে ত্রুটি সংশোধন (রেকটিফিকেশন) এবং গাফিলতির বিষয়ে লিখিত কৈফিয়তও তলব করা হয়েছে।

বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির জানান, মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...