টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাতের আঁধারে নির্মাণকাজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাসাইল জিসি–কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদ অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব নির্মাণের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে আপত্তি জানালে কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ রাখা হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে তাঁরা সেখান থেকে চলে গেলে রাতে আবার কাজ শুরু করে স্ল্যাবের ঢালাই শেষ করা হয়।
ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তে নামে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সেতুর নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজটি বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তাঁর দাবি, ফুটপাতের স্ল্যাব নির্মাণে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে শুধুমাত্র শাটারিংয়ের কাজে। শাটারিংয়ের ওপর পলিথিন বিছিয়ে পরে রড বসিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়। ঢালাইয়ের পর রড সরিয়ে বাঁশের অংশের ভিডিও ধারণ করে বিভ্রান্তিকরভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, নোটিশের জবাব দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে ফুটপাতের স্ল্যাব নতুন করে নির্মাণ করা হবে।
এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান জানিয়েছেন, সেতুর যেসব অংশে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো ভেঙে ফেলে পুনরায় নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গাফিলতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


