দেশে দ্রুত শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসুক—এটাই বিএনপি সরকারের কাছে তাঁর প্রধান প্রত্যাশা বলে জানিয়েছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। দেশের মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে আর কোনো চাওয়া নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন সালমান মুক্তাদির।
ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির বলেন, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হোক—তিনি কখনোই তা চাননি। এ কারণে এতদিন নীরব থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও তাঁদের একান্ত সহকারীদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত কোনো দাবি নেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করারও প্রয়োজন নেই। শুধু দেশের মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার নিশ্চয়তা পেলেই তিনি সন্তুষ্ট।
সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তদন্ত শেষ হয়ে থাকলে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করা হয়ে থাকলে তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। উদ্ধার হওয়া মালামাল চাইলে বিএনপির পক্ষ থেকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার কথাও বলেন তিনি। এতে একজন ভুক্তভোগীর পাশে কীভাবে দাঁড়ানো যায়, তার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি বলেন, নিজের শক্তি, ধৈর্য ও ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে চান। নতুন করে নিজেকে গড়ে তোলার সেই সুযোগ তিনি বিএনপি সরকারের সময়েই দেখতে চান।
ভিডিও বার্তায় সালমান মুক্তাদির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণের পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন। র্যাব, ডিজিএফআই ও পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের সময়ের তুলনায় এবার তাঁদের আচরণে ভিন্নতা দেখেছেন। তাঁর দাবি, কর্মকর্তারা সম্মান দিয়ে কথা বলেছেন, দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।
এ ধরনের আচরণকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হওয়া দরকার, যেখানে কোনো অপরাধের ঘটনায় অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাকে নিজের ভুল স্বীকার ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়।
নিজের পরবর্তী ভিডিওগুলোতে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে কীভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করবেন—সাধারণভাবে নাকি বিস্তারিতভাবে—এ বিষয়ে দর্শকদের মতামত চেয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কোনো বিষয় এড়িয়ে গেছেন—এমন অভিযোগ যেন কেউ তুলতে না পারেন, সেটিও তিনি নিশ্চিত করতে চান।
সালমান মুক্তাদির বলেন, ছোটবেলার একটি স্বপ্ন তাঁর পূরণ হয়েছে এবং এখন তিনি একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ। তবে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে গণমাধ্যম ও তদন্তের বিষয়ে এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি পাননি বলেও জানান তিনি।
দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ বড় কোনো কিছু নয়, বরং সুন্দর আচরণ, স্বীকৃতি, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিক সংযোগ প্রত্যাশা করে। তাঁর মতে, হতাশার মধ্যেও মানুষের শেষ প্রত্যাশা হলো—কর্তৃপক্ষ অন্তত ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ করবে।
সবশেষে দেশের স্বার্থে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করতেও প্রস্তুত থাকার কথা জানান সালমান মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশের ভালো হলে নিজের সম্পদ বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়েও ছাড় দিতে প্রস্তুত তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র না করে দেশের জন্য ইতিবাচক কিছু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


