লোগো
Advertisement

‘চাঁদাবাজ’ শব্দটি বিএনপির নেতারাই আমার চেয়ে বেশি প্রচার করেছেন: সালমান মুক্তাদির

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
Advertisement

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিজের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ, দখলদারিত্ব ও অন্যান্য দাবির বিষয়গুলো পাশ কাটিয়ে বারবার ‘চাঁদাবাজ’ শব্দটি ব্যবহার করে তাঁরাই বিষয়টিকে অন্যভাবে সামনে এনেছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন সালমান মুক্তাদির।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁকে ‘বস্তি’ ও ‘টিকটকার’সহ বিভিন্নভাবে আখ্যা দেওয়া হলেও তিনি এসব কথায় গুরুত্ব দিতে চান না। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইনে বিএনপির নেতাকর্মীদের বক্তব্যে তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার মূল বিষয়গুলো বাদ দিয়ে ‘চাঁদাবাজ’ শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সালমান মুক্তাদিরের ভাষ্য, তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধ, দখলদারিত্বের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো এবং যেসব প্রমাণের কথা বলা হচ্ছে—এসব নিয়ে আলোচনা না করে ‘চাঁদাবাজ’ শব্দটিকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটি মূল ঘটনাকেই আড়াল করছে।

ভিডিওতে তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, তিনি একজন পরিচিত ব্যক্তি হওয়ায় বিষয়টি গণমাধ্যমে এসেছে; কিন্তু দেশের অন্য অনেক নাগরিকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধের ঘটনা একইভাবে সামনে আসে না।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সালমান বলেন, একজন পরিচিত ও সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষ হয়েও তিনি নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের প্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা পাননি। দেশের সাধারণ নাগরিকদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ধর্ষণ, হত্যা, দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের শিকার মানুষের কথা তুলে ধরে সালমান বলেন, পরিচিত ব্যক্তি বা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ঘটনাকে ঘিরে গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলের যে মনোযোগ তৈরি হয়, সেটি সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন।

বিএনপির রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সালমান বলেন, বিএনপি একটি রাজনৈতিক সংগঠন; সংগঠনটির ভেতরে বিভিন্ন ধরনের মানুষ থাকতে পারেন। কিন্তু তাঁর ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বক্তব্যে একাধিক ভিন্ন বয়ান সামনে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর প্রস্তাব, বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি অভিন্ন ও পরিষ্কার বক্তব্য দেওয়া হলে সেটির জবাব দিতেও তিনি প্রস্তুত। আর যদি একাধিক বক্তব্য বা দাবির উত্তর দিতে হয়, সেক্ষেত্রেও তিনি বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি আছেন বলে জানান।

ঘটনার পেছনে কী বলছে পুলিশ

গত ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদী এলাকার নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ও ছিল। ঘটনার পর স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ ওঠে।

প্রাথমিকভাবে সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেছিলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা হামলা চালিয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে জমি দখলসংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানানো হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউগিনি প্রপার্টিজের জমির মালিক ও এলাকার অন্য জমির মালিকদের বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছয়ে পৌঁছেছে বলে চ্যানেল ২৪-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এদিকে, হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি বয়ানও সামনে এসেছে। ফলে সালমান মুক্তাদিরের সর্বশেষ ভিডিও বার্তায় মূল ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বক্তব্য—তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...