রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

আলমডাঙ্গায় আ.লীগ নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর মুক্তি, কর্মকর্তাদের বক্তব্যে গরমিল

নিজস্ব প্রতিবেদক৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম
আলমডাঙ্গায় আ.লীগ নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর মুক্তি, কর্মকর্তাদের বক্তব্যে গরমিল

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খাসকররা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাফফর হোসেন লালুকে ঘিরে শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। তিনি কাবিলনগর গ্রামের মৃত ছরাফের মণ্ডলের ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সাদাপোশাক পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে মোজাফফর হোসেন লালুর বাড়িতে গিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় দুপুরের দিকে তাকে আবারও নিজ এলাকায় ফিরে আসতে দেখা যায়। এর পরপরই এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে খাসকররা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিমুল জানান, সকাল সাড়ে সাতটার কাছাকাছি সময়ে সাদাপোশাকে এসে পুলিশ পরিচয় দিয়ে লালুকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুপুরের মধ্যেই তিনি আবার বাড়িতে ফিরে আসেন। তিনি আরও জানান, লালু সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে এলাকায় বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসঙ্গতি

ঘটনার বিষয়ে তিয়রবিলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, মোজাফফর হোসেন লালুকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেবল তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি অসুস্থ বোধ করায় তাকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হারদী হাসপাতাল) নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি জানেন কি না—জানতে চাইলে এসআই আসাদুজ্জামান দাবি করেন, এ বিষয়ে ওসির জানা রয়েছে। তবে এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে তিনি প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে ফাঁড়ি ইনচার্জের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত কথা জানান আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, মোজাফফর হোসেন লালুকে আটক করা কিংবা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া এবং অসুস্থতার কারণে ছেড়ে দেওয়ার কথা ফাঁড়ি ইনচার্জ বললেও থানার ওসির কাছে কোনো তথ্য না থাকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিরও কোনো সত্যতা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে পুরো ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে স্বচ্ছ তদন্ত ও পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আঞ্চলিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...