রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: স্বপ্ন ফিরল কফিনবন্দী হয়েবরিশাল শিক্ষা বোর্ড: তিন কারণে ফল বিপর্যয়আজকের নামাজের সময়সূচি: ০১ নভেম্বর ২০২৬সাজেকে আবারও অবরোধ ঘোষণালংমার্চে সীমিত অংশগ্রহণ: জোটে থেকেও এনসিপির নিজের রাজনীতিতে জোরকল্যাণপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিলসন্ধ্যার পর অকারণে বাইরে ঘুরলে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি ডিআইজিরতফসিলের আগেই নেহালপুরে ভোটের হাওয়া: পাড়া-মহল্লা ছাপিয়ে ফেসবুকে সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরাসাত দফা মেনে নিলে, এক দফার প্রয়োজন হবে না: সমাপনী বক্তব্যে জামায়াত আমিরযশোরে অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে যুবক আটক
বিজ্ঞাপন

ইরানে পরমাণু বোমা ফেলা হবে ‘পাগলামি’, সাফ জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
ইরানে পরমাণু বোমা ফেলা হবে ‘পাগলামি’, সাফ জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগ করবে না বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের চিন্তাকে ‘পাগলামি’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, নিজেদের সামরিক লক্ষ্য হাসিল করতে ওয়াশিংটনের প্রচলিত শক্তির সক্ষমতাই যথেষ্ট, এখানে পরমাণু অস্ত্রের কোনো দরকার নেই।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পরপরই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয় এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশেষ করে ইরানের মাটির গভীরে থাকা সুরক্ষিত পরমাণু স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে পেন্টাগন ছোট আকারের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র কাজে লাগাতে পারে—এমন আশঙ্কা ও বিতর্ক ডালপালা মেলছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি বক্তব্যে সেই জল্পনাকল্পনায় ইতি ঘটল।

যে কারণে পরমাণু বোমার প্রসঙ্গ সামনে আসে

ইরানের কোম শহরের কাছে পাহাড় কেটে তৈরি ফোরদো কেন্দ্র এবং নাতানজের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভূগর্ভের অনেক গভীরে অবস্থিত। সামরিক বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের ধারণা ছিল, সাধারণ প্রচলিত বোমা দিয়ে মাটির নিচে সুরঙ্গে ঘেরা এত শক্ত ঘাঁটি ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।

এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থি কিছু রাজনীতিক ও ইসরায়েলের ডানপন্থি নেতারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হিরোশিমা ও নাগাসাকির দৃষ্টান্ত টেনে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চরম পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিতে থাকেন। অতীতে ট্রাম্পের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের নজির থাকায় এই শঙ্কা আরও তীব্র রূপ নেয়। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক মহলে পরমাণু সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।

প্রচলিত বোমার শক্তি ও তেজস্ক্রিয়তার মারাত্মক ঝুঁকি

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ কর্তারা অবশ্য শুরু থেকেই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন। ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বিশেষায়িত বাংকার বাস্টার বোমা ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর’ (এমওপি) রয়েছে। এই প্রচলিত বোমাটি মাটির নিচে ২০০ ফুট গভীরে গিয়েও শক্ত কংক্রিট ভেদ করতে পুরোপুরি সক্ষম।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ইরানে যেকোনো ধরনের পারমাণবিক হামলা ১৯৪৫ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে চলে আসা পরমাণু ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক রীতিকে চিরতরে ধূলিসাৎ করে দিত।

তা ছাড়া পরমাণু বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয়তার মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় কণা বাতাসের সঙ্গে মিশে পার্শ্ববর্তী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ত। এর সরাসরি প্রভাব পড়ত উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রের পানি মিষ্টি করার প্ল্যান্টগুলোতে, যা স্থায়ী দূষণের শিকার হতো। কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ আরব মিত্রদের সম্পর্কেও বড় ধরনের ফাটল ধরত।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...