সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: স্বপ্ন ফিরল কফিনবন্দী হয়ে

অভাব-অনটনের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ভিটেমাটি বন্ধক রেখে ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন এই প্রবাসীরা। স্বজনদের চোখে ছিল সচ্ছলতার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কফিনে ফিরল। আর তাঁদের স্বজনদের কাঁধে চেপে বসেছে চড়া সুদের দেনা।
নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন, ‘ছেলের লাশটা বুকে জড়াইয়া মনে হইলো, আমার বুকের ভেতরটাও চিরতরে ফাইটা চৌচির হইয়া গেছে।’
নিহত মাসিদুলের বাবা মজনু সরদার বলেন, ‘জীবনের এই শেষ বয়সে এসে এত বড় শোক সহ্য করার শক্তি আমার আর নেই।’
নিহত সাগর আলীর স্ত্রী পারভীন খাতুন বলেন, ‘ঋণের একটা টাকাও শোধ করতে পারলাম না। বাচ্চা দুইটাকে নিয়া এই শূন্য হাতে আমি এখন কার কাছে গিয়ে দাঁড়াব?’
সরকারি সহায়তার বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের মরদেহ দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে আপাতত ৩৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তিন মাস পর ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করতে স্থানীয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

