রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
পল্টনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহতসিআইডির সাবেক প্রধানের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক গুরুতর আহতকেশবপুরে ধানখেতের আইলের পাশের ড্রেনে দুই নারী-পুরুষের মরদেহচীন বিতর্কে মরিনহোর সমর্থন পেলেন এমবাপ্পেস্পেনে লুটপাটের আশঙ্কায় শপিং মল-দোকানের কাচ ঢেকে দিলেন ব্যবসায়ীরালংমার্চ থেকে ফেরা বাসচাপায় পথচারী নিহত, খাদে পড়ে আহত অর্ধশতইতিহাদে ব্রাইটনের ইতিহাস, টানা দ্বিতীয় হার সিটিরদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রীবনানীতে ক্লাব নটরডেমিয়ান্সের বিশেষ স্বাস্থ্য সেমিনারদাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না: জামায়াত আমির
বিজ্ঞাপন

কাজ শেষ হওয়ার আগেই আকরাম খানের প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটির বিল ডিএনসিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
কাজ শেষ হওয়ার আগেই আকরাম খানের প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটির বিল ডিএনসিসির

কাজ শেষ হওয়ার আগেই একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সড়কবাতির দুটি কাজের বিপরীতে প্রোটেস্টার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এই বিল দেওয়া হয়। প্রোটেস্টারের মালিক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান।

ডিএনসিসির নথি অনুযায়ী, গত ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার আগেই দুই প্রকল্পে মোট ১০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৩ হাজার ২১৮ টাকার বিলের ফাইলে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্টরা। আয়কর ও ভ্যাট কেটে রাখার পর নিট অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪৭ টাকা। এর মধ্যে অঞ্চল-৫-এর প্রকল্পে কাজের ভৌত অগ্রগতি ধরা হয়েছে ২৯ শতাংশ।

প্রোটেস্টার লিমিটেড ডিএনসিসির বিদ্যুৎ বিভাগে সড়কবাতির দুটি কাজ পেয়েছে। দুই কাজের মোট দর ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

দরপত্রের শর্ত ছিল, দরদাতাকে আগে সফলভাবে শেষ করা কাজের অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে। প্রোটেস্টার দুই দরপত্রেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) একটি অসম্পন্ন কাজের সনদ দেখিয়েছে। কাজটি তখনও চলছিল। পরে ডিএনসিসির আরেকটি সাধারণ কাজের সনদ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সড়কবাতি প্রকল্পের মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে ডিএনসিসি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ১০ কর্মকর্তার চীন সফর মঞ্জুর হয়। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যসহ মোট ২২ জন ওই সফরে যান।

অঞ্চল-৩-এর দরপত্র ও অভিজ্ঞতার শর্ত

মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে জাহাঙ্গীর গেট এবং অঞ্চল-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন সড়কে বাতির খুঁটি ও স্মার্ট এলইডি লাইট সরবরাহের জন্য গত বছর দরপত্র আহ্বান করে ডিএনসিসি। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার এই দরপত্র আহ্বান করেন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম। এতে অংশ নেয় প্রোটেস্টার লিমিটেড, এস এস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং সালেক পাওয়ার লিমিটেড।

শর্ত ছিল, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম পাঁচ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে গত ১০ বছরে একটি চুক্তির আওতায় অন্তত ১০ কোটি ৮ লাখ টাকার কাজ সফলভাবে শেষ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর বাইরে প্রতি বছর ২৩৫টি ডেকোরেটিভ পোল (সৌন্দর্যবর্ধক বাতির খুঁটি) এবং ৩৯৫টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট সরবরাহ বা উৎপাদন সক্ষমতার শর্ত দেওয়া হয়।

প্রোটেস্টার লিমিটেড দরপত্রের সঙ্গে রাসিকের ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার একটি কাজের চুক্তি জমা দেয়। ওই নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩১ মে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ দরপত্র জমা দেওয়ার সময় কাজটির বাস্তবায়ন চলমান ছিল। ফলে শর্ত অনুযায়ী ‘সফলভাবে সম্পন্ন কাজের’ অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির ছিল না।

সম্পন্ন কাজের অভিজ্ঞতা না থাকার বিষয়ে সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০০৮ (পিপিআর)-এর বিধি ১১৮ লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তখন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (পিপিএ) এ বিষয়ে বিধি অনুযায়ী কাজ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ এবং দরদাতাদের জন্য নির্দেশনার ১৫.১ (বি) ধারা অনুসরণ না করে ডিএনসিসির ১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার একটি সাধারণ কাজের সনদ ব্যবহার করা হয়।

সেই সনদ দেখিয়ে ডিএনসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের দপ্তর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর প্রোটেস্টারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরে ৪ ডিসেম্বর ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার চুক্তি হয়।

অঞ্চল-৫-এর দরপত্রেও রাসিকের সনদ

অঞ্চল-৫-এর আওতায় একই দিন অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ২১ কোটি ১৯ লাখ টাকার আরেকটি দরপত্র ডাকেন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মিয়া। জাহাঙ্গীর গেট থেকে ফার্মগেট, বিজয় সরণি, খেজুর বাগান এবং বিমানবন্দর থেকে খামারবাড়ি ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত ডেকোরেটিভ লাইট পোল ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য এটি আহ্বান করা হয়।

এই দরপত্রে একমাত্র অংশগ্রহণকারী ছিল প্রোটেস্টার লিমিটেড। এখানে ১৫ কোটি ৫ লাখ টাকার একক কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে আগের মতোই রাসিকের অসম্পন্ন কাজের সনদ জমা দেওয়া হয়। পরে আগের সাধারণ কাজের সনদ ব্যবহার করে একই প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি হয় ৪ ডিসেম্বর।

দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দরপত্র থেকে মালামাল গ্রহণ পর্যন্ত সব বিষয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে হওয়ার কথা। প্রশ্ন উঠলে করপোরেশন থেকে আবার যাচাই করে দেখা হবে।’

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...