ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক

সম্প্রতি ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শের প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ইসলামি আকিদা ও শরিয়তের অকাট্য বিধান অনুযায়ী, নারী ও পুরুষের সৃষ্টিগত পরিচয় মহান আল্লাহর সুনির্দিষ্ট কুদরত ও নির্ধারিত বিধান। মানুষের জন্মগত লৈঙ্গিক পরিচয় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে অস্বীকার করে বিকৃত লিঙ্গপরিচয় পরিবর্তনের মতাদর্শকে বৈধতা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এর প্রচার-প্রসার চালানো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের ইমান, আকিদা, ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক সংস্কৃতি এবং মৌলিক নৈতিকতার চরম পরিপন্থি।
ইসলাম সব মানুষের মানবিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের সুদৃঢ় নিশ্চয়তা প্রদান করে জানিয়ে তারা বলেন, ইসলামে ব্যক্তির প্রতি অবমাননা, বিদ্বেষ বা বৈষম্যমূলক আচরণের স্থান নেই। কিন্তু মানবিক মর্যাদা রক্ষার নামে ধর্মীয় শরিয়ত ও আসমানি বিধানের সরাসরি বিরোধী কোনো ভ্রান্ত মতবাদ বা বিকৃত এজেন্ডাকে সমাজে চাপিয়ে দেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও দয়া প্রদর্শন এবং নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্নে আপসহীন ও দৃঢ় অবস্থান- উভয়টিই ইসলামের শাশ্বত ও স্বতন্ত্র শিক্ষা।
শিক্ষাব্যবস্থা একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তা, চরিত্র, মনন ও নৈতিকতা গঠনের মূল স্তম্ভ জানিয়ে হেফাজতের শীর্ষ এ দুই নেতা বলেন, জাতির ভিত্তিমূলে এমন কোনো বিতর্কিত ও ধ্বংসাত্মক ধারণার বীজ বপন করা কোনোভাবেই উচিত নয়, যা দেশের ৯০ ভাগ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, সুস্থ পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ তৈরি করে।
তাদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে সেখানে নিখাদ নৈতিকতা, সুমহান মানবিকতা, ধর্মীয় অনুশাসন এবং সুস্থ সামাজিক চেতনার সুদৃঢ় বিকাশকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

