জীবিকার তাগিদে, বাঁশের ঝুড়ির ভারে জীবন”
জীবিকার তাগিদে, বাঁশের ঝুড়ির ভারে জীবন
জীবন থেমে থাকে না। পেটের দায়ে মানুষকে প্রতিদিনই ছুটতে হয়—কখনো রোদে, কখনো বৃষ্টিতে, কখনো কাদামাটির পথ পেরিয়ে। কারও জীবনের গল্প অফিসের চার দেয়ালে, কারও গল্প আবার ধুলোমাখা পথ আর ঘামের বিন্দুতে লেখা।
ছবিতে দেখা মানুষটিও তেমনই একজন। একটি সাইকেলকে ঘিরে সাজানো অসংখ্য বাঁশের ঝুড়ি, কুলা ও বাঁশের তৈরি নানা সামগ্রী। এত ভার কাঁধে নয়, যেন পুরো সংসারের দায়িত্বটিই তিনি সাইকেলের ওপর তুলে নিয়ে পথ চলেছেন।
এক হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল, সামনে বাঁশের তৈরি পণ্যের বিশাল বোঝা—আর সেই বোঝার আড়ালে লুকিয়ে আছে একজন শ্রমজীবী মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম। হয়তো কোনো এক গ্রামের ঘরে বসে এসব ঝুড়ি তৈরি করেছেন কোনো কারিগর। আর সেগুলো মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে এই মানুষটি ছুটে চলেছেন এক রাস্তা থেকে আরেক রাস্তায়।
তার পরনে সাদা শার্ট, কোমরে লুঙ্গি। পায়ে পুরোনো স্যান্ডেল। চেহারায় ক্লান্তির ছাপ থাকলেও থেমে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তার পথচলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের খাবার, সন্তানের প্রয়োজন, সংসারের খরচ—আর আগামী দিনের একটু ভালো থাকার স্বপ্ন।
জীবননগরের রাস্তায় আজকের এই দৃশ্য যেন আমাদের খুব সাধারণ একটি সত্য আবার মনে করিয়ে দিল—শ্রম কখনো ছোট নয়।
আমরা যখন বাজারে সহজেই একটি বাঁশের ঝুড়ি কিনে নিই, তখন হয়তো ভাবিই না—সেই ঝুড়ি আমাদের হাতে পৌঁছানোর পেছনে কত মানুষের ঘাম, শ্রম আর পথচলা জড়িয়ে আছে।
ছবির এই মানুষটির হয়তো বড় কোনো পরিচয় নেই। কিন্তু তার প্রতিদিনের এই পথচলাই তার পরিচয়। তিনি হাঁটছেন, কারণ তাকে হাঁটতেই হবে। বোঝা ভারী, পথ দীর্ঘ—তবুও জীবিকার তাগিদে চলতে হয়।
বাঁশের ঝুড়ির ভার হয়তো সাইকেলটাকে ভারী করে তুলেছে, কিন্তু তার চেয়েও ভারী তার জীবনের দায়িত্ব।
📍 স্থান: জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা
📷 ছবি ও লেখা: ইসমাইল হোসেন
