সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার যন্ত্র কেনার আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার যন্ত্র কেনার আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন

জ্বর মাপা, রক্তচাপ নির্ণয় কিংবা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা জানার জন্য আজকাল অনেকেই বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার যন্ত্র ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি দৈনন্দিন হাঁটাচলা, ঘুম এবং হৃৎস্পন্দনের গতিবিধি নজরে রাখতে স্মার্টওয়াচের মতো পরিধেয় প্রযুক্তির ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। এসব পণ্য কেনার সময় মোড়কের গায়ে প্রায়ই ‘মেডিকেল গ্রেড’, ‘হাসপাতাল মানের’ কিংবা ‘চিকিৎসক কর্তৃক সুপারিশকৃত’—এ জাতীয় নানা চটকদার শব্দ চোখে পড়ে।

এ ধরনের চটকদার শব্দ দেখে সাধারণ ক্রেতারা পণ্যটিকে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য মনে করে থাকেন। তবে প্যাকেটের গায়ে কেবল ‘মেডিকেল গ্রেড’ লেখা থাকলেই সেটি চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যবহারের উপযুক্ত কি না কিংবা যন্ত্রটি আদৌ সঠিক তথ্য দেয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া একদমই অনুচিত। যন্ত্রটি সুনির্দিষ্ট কোন কাজের জন্য তৈরি, প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য, যথাযথ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না এবং এর ফলাফলের নির্ভুলতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আছে কি না—তা আগেই যাচাই করা দরকার। কারণ কোনো যন্ত্রের ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসার পদক্ষেপ নিলে তা রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

‘মেডিকেল গ্রেড’ শব্দের প্রকৃত অর্থ কী?

চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত মানসম্পন্ন পণ্যকে সাধারণত ‘মেডিকেল গ্রেড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বাজারে থাকা সব পণ্যের ক্ষেত্রে এই শব্দের তাৎপর্য একই রকম নয়। ডিভাইসের ধরন, এটি ব্যবহারের লক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট দেশের নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে এই সংজ্ঞার হেরফের ঘটে।

উদাহরণস্বরূপ, একটি স্মার্টওয়াচ ব্যবহারকারীর হৃৎস্পন্দনের ওঠানামা সম্পর্কে প্রাথমিক একটি ধারণা দিতে পারে। তবে সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের জটিলতা বা রোগ চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। একইভাবে, সাধারণ একটি অক্সিমিটারের ফলাফল এবং চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য মান যাচাই করা অক্সিমিটারের ফলাফলের নির্ভুলতা কখনো এক নাও হতে পারে।

ফলে কোনো যন্ত্রের গায়ে ‘মেডিকেল গ্রেড’ লেখা দেখলেই সেটি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য পুরোপুরি উপযোগী—এমন ভাবা একেবারেই ঠিক নয়।

যন্ত্রটি ব্যবহারের ক্ষেত্র ও উদ্দেশ্য জেনে নেওয়া

স্বাস্থ্যবিষয়ক যন্ত্র কেনার আগে প্রথমেই বুঝতে হবে, এটি কি কেবল সাধারণ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য বানানো হয়েছে, নাকি নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক সমস্যা বা রোগ শনাক্ত করতে সক্ষম।

একটি স্মার্টওয়াচ হয়তো সারাদিনের শারীরিক সক্রিয়তা, হাঁটাচলা, ঘুম কিংবা হৃৎস্পন্দনের সাধারণ চিত্র তুলে ধরতে পারে। কিন্তু সব স্মার্টওয়াচ চিকিৎসাকাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি হয় না। অন্যদিকে, রক্তচাপ মাপার যন্ত্রের মূল কাজই হলো রক্তচাপের সঠিক পরিমাপ দেওয়া। তাই এ ধরনের পণ্য কেনার আগে এটি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম এবং ব্যবহারকারীর উপযুক্ততা যাচাই করা অপরিহার্য।

এ কারণে শুধু বিজ্ঞাপনে দেওয়া সুবিধার তালিকায় সীমাবদ্ধ না থেকে পণ্যের মোড়ক, নির্দেশিকা এবং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে উল্লিখিত ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ভালোভাবে পড়ে নেওয়া প্রয়োজন।

প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই

যেকোনো বিশ্বস্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার যন্ত্রে সাধারণত প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম, সুনির্দিষ্ট মডেল নম্বর এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকে। পণ্যের ভেতরে থাকা ব্যবহার নির্দেশিকা বা প্রয়োজনীয় নথিপত্রেও এসব তথ্য পাওয়া যায়।

আমদানিকৃত বা বিদেশি পণ্যের গায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতীক বা সনদসংক্রান্ত চিহ্ন থাকতে পারে। তবে কোনো চিহ্ন দেখেই পণ্যটি সব ধরনের চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত বলে ধরে নেওয়া সংগত নয়। ওই প্রতীক বা সনদটি আসল কি না, সেটি কোন মডেলের জন্য প্রযোজ্য এবং সুনির্দিষ্ট কোন ধরনের ব্যবহারের অনুমতি দেয়—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বাংলাদেশে চিকিৎসাসংক্রান্ত পণ্যের ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) তথ্য অনুসরণ করা যেতে পারে। সরকারের এই সংস্থাটি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত মেডিকেল ডিভাইসের তালিকা এবং এ-সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়মিত প্রকাশ করে। তবে সব ধরনের যন্ত্রের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিবন্ধনবিধি প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। তাই কেনার আগেই প্রস্তুতকারকের পরিচয়, মডেল নম্বর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিবন্ধন বা অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ফলাফলের নির্ভুলতার পক্ষে তথ্যপ্রমাণ থাকা

স্বাস্থ্য মাপার যন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ফলাফলের সঠিকতা। যন্ত্র যদি সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে ব্যবহারকারী নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হবেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র যদি সঠিক ফলাফল না দেয়, তবে রোগীর উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ধরা পড়তে দেরি হতে পারে। একইভাবে, একটি পালস অক্সিমিটার যদি ভুলবশত রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বেশি দেখায়, তবে সঠিক সময়ে হাসপাতালে যাওয়া বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে মারাত্মক বিলম্ব হতে পারে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...