যুক্তরাজ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আত্মার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য মিলনমেলা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন দ্য ইউকে (জুয়াক)-এর উদ্যোগে রোববার (২৫ অক্টোবর) লন্ডনের ডেগেনহামের ফেশওয়ে কমিউনিটি সেন্টারে এ মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পরিবার-পরিজনসহ এতে অংশ নেন। গান, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আনন্দঘন নানা আয়োজনে মিলনমেলাটি পরিণত হয় প্রবাসে জাহাঙ্গীরনগর পরিবারের এক প্রাণবন্ত পুনর্মিলনে।
বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জুয়াকের সভাপতি রানা ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাবিব আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহবুবা জেবিন ও জান্নাতুন নেসা চয়ন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল ছিল উৎসবমুখর। রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে ছিল সংগীত, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময়, নৈশভোজ এবং নানা আকর্ষণীয় পর্ব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ওয়েস্টমিনিস্টার কাউন্সিলের কাউন্সিলর শামসেদ চৌধুরী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, নিউহ্যাম কাউন্সিলের কাউন্সিলর আবদুল হালিম, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউকের সভাপতি শাকির হুসেইন, এনআরবি মিডিয়ার চ্যানেল হেড ওলিউর রহমানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মনোরম সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে সংগীত পরিবেশন করেন আলিম আল রাজি, মাহবুবা জেবিন ও জলি আক্তার। পাশাপাশি ছোট্ট শিল্পী আরওয়ার পরিবেশনাও উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে পুরো আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন সংগীতশিল্পী প্রীতম সাহা, যার পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বাড়তি উচ্ছ্বাস ও আনন্দের মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় এর ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন, সাবেক সভাপতি মো. শহিদ ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলিম আল রাজী, সিনিয়র সহসভাপতি ওয়াকারুল আমিন রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিয়ার রহমান, ড. আসমা পারভীন মুক্তা, নাসিমা চৌধুরী, সিকান্দার আলী সিকো, আশরাফুল আলম, নিয়াজ উদ্দিন, ওমর ফারুক, জুলফিকার আলী ভুট্টো, আনিস রহমান, মুকিত শামস জয়, ফারজানা ইয়াসমিন চমন, ফারহানা খান একা, আনিকা হক, ইফতেখার ইফতি, বুলবুল আহমেদ, শিশিরসহ আরও অনেকে।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন এবং প্রবাসে বসবাসরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বক্তারা জুয়াকের এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
মিলনমেলার আরেকটি আকর্ষণীয় পর্ব ছিল র্যাফেল ড্র। তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রধান অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

