ফের গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে শিবিরের প্রতিবাদ, বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি

দেশে ভোক্তাপর্যায়ে আবারও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। পঞ্চম দফায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের এ সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানায় সংগঠনটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, ‘দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষ যখন চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, তখন আবারও রান্নার অপরিহার্য উপাদান এলপিজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কোনো জনবান্ধব সরকারের কাজ হতে পারে না। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত আট মাসে পাঁচ দফায় এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে দুই দফায় যথাক্রমে ৩৮৭ ও ২১২ টাকা, আগস্টে ৭০ টাকা, অক্টোবরে ২৫২ টাকা এবং সোমবার সর্বশেষ ২২৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে বারবার জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম এভাবে বাড়ানো জনস্বার্থের পরিপন্থী।’
নেতারা আরও বলেন, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার বাস্তবতা বিবেচনা না করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ব্যয় বাড়িয়ে জনগণের ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষের আয় না বাড়লেও সংসার পরিচালনার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, শিক্ষার্থী, ভাড়াটিয়া এবং সীমিত আয়ের মানুষ এ মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি শিকার হচ্ছেন। এর পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে খুচরা বাজারে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদের নির্ধারিত মূল্যের বাইরেও বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে, যার প্রভাব সামগ্রিক বাজারব্যবস্থায় পড়বে। সরকারের দায়িত্ব জনগণের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো নয়; বরং মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা।

