রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

আইজিপির ক্রসফায়ারের ঘোষণা আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত: ছাত্রশিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ এএম
আইজিপির ক্রসফায়ারের ঘোষণা আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত: ছাত্রশিবির

সরকারের অনুমতি পেলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ার করবে- পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলি হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, পুলিশের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত একজন কর্মকর্তার মুখ থেকে ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রকাশ্য ঘোষণা সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত। অপরাধ দমনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর প্রধান যখন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন, তখন তা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে এসব অধিকার খর্ব করা যায় না।

তাদের মতে, কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেই আইন নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে তার জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই।

তাদের দাবি, আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতেও তার বক্তব্যকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের মনোভাব ফ্যাসিবাদি মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

কে অপরাধী এবং তার শাস্তি কী হবে, তা নির্ধারণের এখতিয়ার আদালতের বলে জানান তারা। তারা বলেন, পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত করা এবং অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা; কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই। প্রচলিত আইনে কোনো অপরাধের শাস্তি হিসেবে ক্রসফায়ারের বিধান নেই। ক্রসফায়ারকে যে অর্থেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন, এর মাধ্যমে বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়াই বোঝায়।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...