চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অবৈধ পথে পরিবহনের সময় জব্দ করা ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি শুরু করেছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রথম দিনে ৯৫ বস্তা সার বিক্রি করা হয়েছে। বাকি ৩৪৫ বস্তা সার মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিক্রি করা হবে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা সার কার্ড দেখিয়ে নির্ধারিত মূল্যে এসব সার কিনছেন। জব্দ করা সার বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকদের সহযোগিতায় উপজেলার কয়রাডাঙ্গা এলাকায় টিএসপি সারবোঝাই একটি ট্রাক আটক করে হাপানিয়া ক্যাম্প পুলিশ। পরে ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়।
এ সময় সারসহ ট্রাকটি জব্দ করা হয়। একই ঘটনায় সারের মালিক আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া গ্রামের মিনারুল ইসলাম, ট্রাকচালক শাকিল হোসেন ও হেলপার ইসরাফিলকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, যশোরের নওয়াপাড়ার ‘দিনান ট্রান্সপোর্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাকটিতে করে সারগুলো চুয়াডাঙ্গার বিএডিসি গোডাউনের উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল। তবে সার পরিবহনের কাগজপত্র ও গন্তব্য নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চালানটি জব্দ করে।
পরে জব্দ করা সার উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সার পরিবহনের দায়ে সারের মালিক মিনারুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জব্দ করা সার নষ্ট না করে কৃষকদের প্রয়োজন মেটাতে তা ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রথম দফায় ৯৫ বস্তা টিএসপি সার বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা এসে সার কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে সার সংগ্রহ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যাতে অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, মজুত কিংবা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা না হয়, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি চলছে। জব্দ করা সার কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করায় কৃষকদের সার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদেরও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জব্দ করা সারগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি, অবৈধ মজুত, পাচার কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষকদের স্বার্থে সার সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তারা।


