মৎস্য খাতে অবহেলিত প্রায় দুই কোটি শ্রমিক, আইনি সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের দাবি

বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মৎস্যজীবীদের সমস্যা বহুমাত্রিক ও গভীর। জীবনের ঝুঁকিতে লবণাক্ত পানিতে নারী শ্রমিকদের কাজ করা, অবরোধকালীন উপার্জন বন্ধ থাকা এবং পেটের দায়ে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের জেল-জরিমানা হওয়ার মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত অমানবিক।’ মাছ ধরা বন্ধের সায়েন্টিফিক সময় পুনর্মূল্যায়ন করা, হাওর, নদী ও সামুদ্রিক জেলেদের জন্য পৃথক নীতি প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় নীতি ও আইন প্রণয়নের সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যতম সুপারিশের মধ্যে রয়েছে আইনগত স্বীকৃতি; সকল মৎস্য শ্রমিককে শ্রম আইনের আওতায় আনা এবং ‘মৎস্য শ্রমিক’ হিসেবে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও পরিচয় নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা; দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মনিটরিং জোরদার করা, নদ-নদী ও সাগরে ভাসমান হাসপাতাল স্থাপন এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সামাজিক নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ; জাতীয় পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্তি, রেশনিং ব্যবস্থা চালু, বজ্রপাত ও দুর্ঘটনায় নিহত-আহতদের ক্ষতিপূরণ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রবর্তন করা। ট্রেড ইউনিয়ন ও আইনি অধিকার; শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও দর–কষাকষির সুযোগ সহজ করা এবং মাঠ পর্যায়ে অধিকার সচেতনতা সভা বৃদ্ধি করা। বিকল্প কর্মসংস্থান ও আবাসন; মাছ ধরা নিষিদ্ধের মৌসুমে বিকল্প আয়ের সুযোগ, নদীর পাড়ে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং শিশুশ্রম সম্পূর্ণ দূর করা।

