রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: স্বপ্ন ফিরল কফিনবন্দী হয়েবরিশাল শিক্ষা বোর্ড: তিন কারণে ফল বিপর্যয়আজকের নামাজের সময়সূচি: ০১ নভেম্বর ২০২৬সাজেকে আবারও অবরোধ ঘোষণালংমার্চে সীমিত অংশগ্রহণ: জোটে থেকেও এনসিপির নিজের রাজনীতিতে জোরকল্যাণপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিলসন্ধ্যার পর অকারণে বাইরে ঘুরলে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি ডিআইজিরতফসিলের আগেই নেহালপুরে ভোটের হাওয়া: পাড়া-মহল্লা ছাপিয়ে ফেসবুকে সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরাসাত দফা মেনে নিলে, এক দফার প্রয়োজন হবে না: সমাপনী বক্তব্যে জামায়াত আমিরযশোরে অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে যুবক আটক
বিজ্ঞাপন

শেরপুরের গারো পাহাড়ে বন্যহাতি, দেশ আছে কিন্তু ফেরার পথ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
শেরপুরের গারো পাহাড়ে বন্যহাতি, দেশ আছে কিন্তু ফেরার পথ নেই

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্যমতে, গত ১৩ বছরে শেরপুরের এই অঞ্চলে মানুষ-হাতির সংঘাতে মারা গেছে ৩৩টি বন্যহাতি। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ জন মানুষ। অর্থাৎ সংঘাতের প্রতিটি পর্বেই ক্ষতির মুখে পড়ছে দুই পক্ষ। হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি যেমন উদ্বেগজনক, তেমনি সংঘাতের কারণে বন্যহাতির মৃত্যুও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় সংকেত। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে হাতি তাড়ানো হলেও মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেরপুরে বন্যহাতির হামলায় অন্তত ৩৫৬টি ঘটনায় ঘরবাড়ি ও ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেইসঙ্গে ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, হাতির খাদ্যসংকট ও লোকালয়ে প্রবেশ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হাতির আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করাও এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এরই মধ্যে সংঘাত কমাতে গারো পাহাড়ে হাতির জন্য খাদ্যবাগান তৈরিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাতির স্বাভাবিক আবাসস্থল ও চলাচলের পথ রক্ষা এবং মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, হাতি-মানুষের সংঘাত কমাতে গারো পাহাড়ে হাতির জন্য খাদ্য বাগান সৃজন করা হয়েছে। হাতির আবাসস্থল রক্ষা এবং সংঘাত কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কাজ চলছে। হাতির দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে। পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর যারা আছেন, তাদের সাথে আলোচনা করে সচেতনতা তৈরি করে যাচ্ছি। একই সাথে মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এমএ আজিজ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ফসলের ক্ষেতে ঢুকে পড়া হাতিগুলোকে প্রায়ই গ্রামবাসী তাড়া করে। এ সময় তাড়া খেয়ে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছে আটকা পড়ে যাওয়া হাতিগুলো আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তাই বাংলাদেশ ও ভারতকে অবশ্যই আটকে পড়া বন্যহাতির সমস্যার সমাধান করতে হবে। হাতিগুলো যাতে অবাধে চলাচল করতে পারে, সেজন্য গেট খুলে দিতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারত ২০১৭ সালে আন্তঃসীমান্ত হাতি সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা শুরু করে এবং ২০২০ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করে। এরপর তেমন কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। আমরা চাই, দ্রুত এর কার্যকারিতা।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম এশিয়া পোস্টকে বলেন, মানুষ যদি হাতিদের বিরক্ত না করে, তাহলে সাধারণত হাতি মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু ফসল বাঁচাতে মানুষ হাতির মুখোমুখি হয়। যার ফলে সংঘাত তৈরি হয়। এ সংঘাত কমাতে সরকার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছেন। তবে, বর্তমানে অনেকেই হাতিকে বিরক্ত করছে, যার ফলে হাতি ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক সময় আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। এতে কখনো কখনো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি কিংবা ফসলি জমির ক্ষতি হলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত এড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে সভা-সেমিনারের আয়োজন করে মানুষকে হাতিকে বিরক্ত না করার এবং হাতির প্রতি সহনশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বন্যহাতির আক্রমণে কেউ নিহত হলে তার পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং ফসলসহ জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সরকারি বিধান রয়েছে।

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব কমাতে গারো পাহাড়ে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বন্যহাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে কয়েকটি এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। হাতি যখনই লোকালয়ের দিকে অগ্রসর হবে, তখনই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি তুলে ‘টেলিগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে এক মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেবে। এর ফলে দ্রুত এলাকার মানুষ আগেভাগেই সতর্ক হতে পারবেন, যা প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি বিপুল পরিমাণে কমিয়ে আনবে।

তিনি আরও বলেন, হাতি আমাদের দেশের সম্পদ, তাই কোনোভাবেই হাতির ক্ষতি করা যাবে না। আমি ইআরটি সদস্যদের সম্মানী ভাতা বাড়ানোর জন্য উচ্চ পর্যায়ে কথা বলব। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের দক্ষ করে তোলা হবে। মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তার সবই করা হচ্ছে। এ ছাড়া হাতি উপদ্রুত এলাকায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘বায়ো ফেন্সিং’ নির্মাণ এবং ৫ হেক্টর জমিতে হাতির খাদ্য উপযোগী বাঁশ বাগান তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...