শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রীবনানীতে ক্লাব নটরডেমিয়ান্সের বিশেষ স্বাস্থ্য সেমিনারদাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না: জামায়াত আমিরজামায়াতের লংমার্চ থেকে ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, নিহত ১ধর্মীয় বক্তা মিসবাহর ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে প্রকাশ্যে এলেন রোহিঙ্গা নারীহ্যাকিংয়ে চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ উদ্ধারের দাবি বাইন্যান্সেরচোখে আলো নেই, তবুও জিপিএ-৫ পেলেন মৌমিপ্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘অশ্লীল’ নৃত্য, ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তসিংহীমারী গ্রামে শিশুর কণ্ঠে লোকসংস্কৃতি বাঁচানোর লড়াইঘিওরের জাবরা বাজারে মরমি সুরে শেষ হলো ৯ দিনের বাউল মেলা
বিজ্ঞাপন

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্বাবলম্বী বায়েজিদ, পথ দেখাচ্ছেন অন্যদেরও

নিজস্ব প্রতিবেদক২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্বাবলম্বী বায়েজিদ, পথ দেখাচ্ছেন অন্যদেরও

জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও চাকরি না পাওয়ার হতাশা কোনোটিই দমিয়ে রাখতে পারেনি মোহাম্মদ বায়েজিদ হাসানকে। মানুষের করুণার ওপর নির্ভর না করে নিজের মেধা, শ্রম ও ইচ্ছাশক্তিতে গড়ে তুলেছেন কর্মসংস্থান। কম্পিউটারের কাজ করে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি সংসারের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও কম্পিউটারের কাজ শিখিয়ে কর্মসংস্থানের পথ দেখিয়েছেন তিনি।

বায়েজিদ হাসানের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামালনগর গ্রামে। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা তার। শৈশবে দুই পায়ের গঠন স্বাভাবিক ছিল না। ছয় বছর বয়সে ঢাকার পিজি হাসপাতালে তার দুই পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। দীর্ঘ অনুশীলনের পর লাঠির সাহায্যে হাঁটতে শেখেন তিনি।

বায়েজিদের মা ফরিদা রহমান ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কখনো হাল ছাড়েননি। সমাজের নানা কথা উপেক্ষা করে ছেলেকে শিক্ষিত করার উদ্যোগ নেন তিনি। ফরিদা রহমান বলেন, মানুষ বলত, ছেলে প্রতিবন্ধী, তাকে লেখাপড়া করিয়ে কী হবে? আমি বলতাম, তবুও সে সমাজের একজন হবে, তার একটা পরিচয় থাকবে। আমি কখনো চাইনি আমার ছেলে রাস্তায় বসে মানুষের কাছে হাত পাতুক। আমি চেয়েছি, সে লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াক।

মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণে লেখাপড়া চালিয়ে যান বায়েজিদ। ১৯৯৭ সালে সাতক্ষীরা পিএন হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরে উচ্চমাধ্যমিক, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স এবং খুলনার বিএল কলেজ থেকে ২০০৬ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষা শেষ করে একাধিকবার চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত চাকরি পাননি।

এরপর ২০০৮ সালে শুরু করেন কম্পিউটারের ব্যবসা। বর্তমানে তার দোকানে ই-জিপি ও ই-টেন্ডার, পাসপোর্ট ও ভিসা-সংক্রান্ত কাজ এবং বিভিন্ন সরকারি চাকরির আবেদন পূরণসহ নানা ধরনের কম্পিউটার সেবা দেওয়া হয়। এই আয়েই চলে তার সংসার। ২০০৯ সালে বাবাকে হারানোর পর পরিবারের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...