রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
কল্যাণপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিলসন্ধ্যার পর অকারণে বাইরে ঘুরলে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি ডিআইজিরতফসিলের আগেই নেহালপুরে ভোটের হাওয়া: পাড়া-মহল্লা ছাপিয়ে ফেসবুকে সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরাসাত দফা মেনে নিলে, এক দফার প্রয়োজন হবে না: সমাপনী বক্তব্যে জামায়াত আমিরযশোরে অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে যুবক আটকনেহালপুর ইউপি নির্বাচন: তফসিলের আগেই মাঠ ও ফেসবুকে সরব প্রার্থীরারেস্টুরেন্টে তাহসিফ-দীপের সঙ্গে থাকা সেই নারী কে, কী ঘটেছিল টঙ্গীর বস্তিতেপল্টনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহতসিআইডির সাবেক প্রধানের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক গুরুতর আহতকেশবপুরে ধানখেতের আইলের পাশের ড্রেনে দুই নারী-পুরুষের মরদেহ
বিজ্ঞাপন

৪৯ পদের বিপরীতে আছেন ১২ জন, স্বাস্থ্যসেবা চলছে ধুঁকে ধুঁকে

নিজস্ব প্রতিবেদক২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
৪৯ পদের বিপরীতে আছেন ১২ জন, স্বাস্থ্যসেবা চলছে ধুঁকে ধুঁকে

পিরোজপুরের ৪৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে অনেকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জনবলসংকটেও ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ৪৯টি উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। এতে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৪৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টিতে গত সাত মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। বাকি ২১টি কেন্দ্রে সীমিত পরিসরে সেবা চললেও গত তিন মাস ধরে সেখানেও ওষুধ নেই। ফলে এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীকে ওষুধ ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে।

জেলার সাতটি উপজেলার ৫৪টি ইউনিয়নে ৪৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে পাঁচটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদে জনবলসংকট রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামোগত সমস্যাও সেবার মানকে প্রভাবিত করছে।

চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ না পেয়ে অনেকে জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসার জন্য তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

পিরোজপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আল আমিন খান বলেন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গেলে মানুষ ওষুধ পান না। পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বাইরে থেকে করাতে হয়। কোনো রোগী গেলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত অন্যত্র পাঠানোর চেষ্টা করে। কেন্দ্রটির ভবনও অনেক পুরোনো। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো নয়, শৌচাগারের অবস্থাও খারাপ। চারপাশে ময়লার ভাগাড় ও জঙ্গলসদৃশ পরিবেশ থাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপও বেশি বলে তার অভিযোগ। আগে এখানে যে ধরনের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যেত, এখন আর সেই অবস্থা নেই।

জিয়ানগর উপজেলার চরনিপত্তাশী গ্রামের গর্ভবতী নারী শারমিন আক্তার বলেন, পত্তাশী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনেক সময় কাউকে পাওয়া যায় না। অনেক কষ্ট করে এসেও সেদিন চিকিৎসককে পাননি তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ওষুধও পাচ্ছেন না। তার দাবি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সমস্যার সমাধান করে, যাতে তাদের আর ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

একই উপজেলার কালাইয়া গ্রামের আনোয়ারা বেগম (৫৫) চিকিৎসা নিতে এসে বলেন, তার মাথা, নাক-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চর্মরোগ ও ঘা হয়েছে। অনেক দিন ধরে ওষুধ না পেয়ে কেন্দ্র থেকে ফিরে যেতে হচ্ছে। অর্থের অভাবে বাইরে থেকে ওষুধ কেনাও সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। এভাবে ওষুধ বন্ধ করে রাখলে কীভাবে বাঁচব? আমাদের দাবি একটাই, সরকার যেন দ্রুত ওষুধ দেয়।

৪৯ পদের বিপরীতে কর্মরত ১২ জন

ভান্ডারিয়া উপজেলা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা জাকিয়া পারভিন বলেন, এ উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়নে ছয়টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। ছয়টি পদের বিপরীতে তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছেন। ইকরি ও তেলিখালী এই দুটি কেন্দ্রের তিনটি পদের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে তাকে। অন্য কেন্দ্রগুলোতে পরিদর্শিকারা দায়িত্ব পালন করেন।

জাকিয়া পারভিন বলেন, প্রায় সাত মাস ধরে কেন্দ্রে কোনো ওষুধ নেই। পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে সাধারণ রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টি হলে কেন্দ্রের ভবন পানিতে ডুবে থাকে। আবাসিক কোয়ার্টারও জরাজীর্ণ। সেখানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। অফিসের দরজা-জানালাও ভেঙে গেছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...