লাল থেকে কমলা রঙে জাহাজভাঙা শিল্প, স্বার্থ কার—প্রশ্ন বাপার

পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, ‘লাল’ শ্রেণির শিল্প পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলে। এ কারণে নতুন ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) বাধ্যতামূলক।
মালিকপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, ‘লাল’ শ্রেণিতে অনুমোদন পেতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগে, যা আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়। তবে বাপার মতে, এ যুক্তির কাছে ১০ শ্রমিকের প্রাণহানির বিষয়টি গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।
বাপা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গঠিত একটি কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটির সভাপতি পরিবেশমন্ত্রী। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও কয়েকজন সচিব। কমিটিতে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক প্রতিনিধি কিংবা নাগরিক সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পরিবেশবাদীদের মতামত নেওয়া হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে সিদ্ধান্তটি স্থগিত করে ‘লাল’ শ্রেণি বহাল রাখা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের যুক্ত করে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে। ইআইএ বহাল রেখে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, অনলাইন ট্র্যাকিং চালু এবং প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রাখার সুপারিশও করেছে বাপা।
কোনো ‘গ্রিন ইয়ার্ডে’ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনদ পুনর্মূল্যায়ন এবং বারবার দুর্ঘটনা ঘটলে সনদ বাতিলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রতিটি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ এবং নিহত বা আহত শ্রমিকের বয়স, অবশিষ্ট কর্মজীবন ও পরিবারের ক্ষতি বিবেচনায় ক্ষতিপূরণের আইনি মানদণ্ড নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়েছে।

