ঋণে জর্জরিত জেলেদের জীবনে নিষেধাজ্ঞা যেন অভিশাপ

জেলে রাসেল জানান, অনেকেই ছেড়ে দিয়েছে এই পেশা। যারা আছে তারাও ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে। কারণ এই পেশায় কোন লাভ নেই। জেলেরা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে। সাগরে মাছ ধরতে গেলে মাছ পাওয়া যায় না। নিষেধাজ্ঞা, ঝড়, বন্যা, বৈরী আবহাওয়া সব মিলে জেলেদের দুর্দশা যেন প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে। আমরা সরকারের কাছে কম সুদে ঋণ চাই। ছেলেমেয়েদের নিশ্চিত ভবিষ্যৎ চাই পড়াশোনার সুযোগ চাই।’
ট্রলার মালিক ইনসান বলেন, ২০০ লিটার জ্বালানি তেল আগে ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা ছিল এখন ২৯ হাজার টাকা। তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। ১৫ দিন সাগরে বসে মাছ ধরতে হয়। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়া এলে তীরে চলে যেতে হয়। এত ভোগান্তির পরেও ইলিশ ধরতে গিয়ে ইলিশ পাওয়া যায় না। জেলেদের পাশাপাশি ট্রলার মালিকদের জীবনও যেন চরম অনিশ্চয়তায় চলছে।
দক্ষিণ উপকূলীয় মৎস্য কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘জেলেরা সত্যি হতাশাগ্রস্ত। সবাই ঋণগ্রস্ত, সবারই সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সরকারকে আহ্বান করব ২২ দিন অবরোধে ২৫ কেজি চাল নয়। এটি আরও বাড়ানো দরকার।’
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে পিরোজপুর জেলার ৭টি উপজেলায় ২০ হাজার ৯৪৫ জন সমুদ্রগামী নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে ৫২৩.৬২ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত, বলেন, ইলিশ আহরণের সঙ্গে জড়িত জেলেদের ২২ দিনের অবরোধে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

