পলাশবাড়ীতে এডিপির পৌনে ৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে কমিটি

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, প্রকল্পের নাম, বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের বিস্তারিত না জানিয়েই কাগজপত্রে সভাপতি দেখানো হয়েছে। তৎকালীন ইউএনওর প্রকল্পের কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে আগাম স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক নেওয়া হয়। পরে তাঁদের অজান্তে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে কাজের বাস্তব অবস্থা ও নথিপত্রের মধ্যে অসংগতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পেছনে সিসি ঢালাইয়ের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কাজের সঙ্গে বরাদ্দের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের টয়লেট সংস্কারে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, টয়লেটটির অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। একই কার্যালয়ের আসবাব কেনার জন্য বরাদ্দ করা ৩ লাখ টাকার মধ্যে একটি টেবিল ও চেয়ার কিনতে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। আগের আসবাব ও এসিরও কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের টয়লেট সংস্কার ও যাতায়াতের রাস্তা সিসিকরণ প্রকল্পের কাজ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, টয়লেটটি জরাজীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন এবং রাস্তার সিসি ঢালাই প্রয়োজনের তুলনায় কম। ঘোড়াবান্ধা এলাকার হজরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য বরাদ্দ করা ৩ লাখ টাকা কোন কাজে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পরিষদের শিউলি ভবন সংস্কারকাজের মান ও ব্যয়ও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

