রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
কল্যাণপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিলসন্ধ্যার পর অকারণে বাইরে ঘুরলে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি ডিআইজিরতফসিলের আগেই নেহালপুরে ভোটের হাওয়া: পাড়া-মহল্লা ছাপিয়ে ফেসবুকে সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরাসাত দফা মেনে নিলে, এক দফার প্রয়োজন হবে না: সমাপনী বক্তব্যে জামায়াত আমিরযশোরে অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে যুবক আটকনেহালপুর ইউপি নির্বাচন: তফসিলের আগেই মাঠ ও ফেসবুকে সরব প্রার্থীরারেস্টুরেন্টে তাহসিফ-দীপের সঙ্গে থাকা সেই নারী কে, কী ঘটেছিল টঙ্গীর বস্তিতেপল্টনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহতসিআইডির সাবেক প্রধানের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক গুরুতর আহতকেশবপুরে ধানখেতের আইলের পাশের ড্রেনে দুই নারী-পুরুষের মরদেহ
বিজ্ঞাপন

পুকুর খনন প্রকল্পের মাটি গোপনে বিক্রি করে দিচ্ছেন ছাত্রদল নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
পুকুর খনন প্রকল্পের মাটি গোপনে বিক্রি করে দিচ্ছেন ছাত্রদল নেতা

ঢাকার সাভারে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে পরিচালিত সরকারি খাস পুকুর খনন, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের মাটি রাতের আঁধারে কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাভার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। সেই মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছেন তমিজ উদ্দিন ও তার অনুসারীরা। ফলে আশপাশের মানুষের বসতবাড়ি, জমি ও চলাচলের রাস্তা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।

নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করে এক ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের বসতভিটার চারপাশের মাটি পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুকুরের কোনো পাড় রাখা হয়নি। ফলে আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। ছাত্রদল সভাপতি তমিজ এই মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় মনির জানান, পুরো কার্যক্রমের সঙ্গে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তমিজ উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কাটা মাটি বর্তমানে আশুলিয়ার কন্ডার দিকে অবস্থিত ‘এমেইলি’ নামের একটি ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতি ট্রাক মাটি এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাস্তবায়নে ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে চারটি প্যাকেজে ২ কোটি ৬১ লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ টাকা বরাদ্দে সাভারের ১৮টি খাস পুকুর ও জলমহাল সংস্কার প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং চলতি বছরের ১৬ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও কোনো পুকুরের কাজই সম্পূর্ণ হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প-৪-এর আওতায় শিমুলিয়া কাচারিবাড়ি, দেওয়ানবাড়ি, বদরউদ্দিন খান, তাজপুর, কবিরপুর ভুনাবাড়ি, বাইদগাঁও জিয়াস, কোনাপাড়া কচুশাক ও বাসাইদ পুকুর খননের কাজের জন্য ৫৯ লাখ ২১ হাজার ৮৫০ টাকায় মাদারীপুরের বিসিক এলাকার ‘মেসার্স হাজী শরিয়ত উল্লাহ ট্রেডার্স’কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের সুগন্ধি এলাকার দেওয়ানবাড়ি পুকুর সংস্কারকাজের জন্যই প্রায় নয় লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

এ বিষয়ে কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হাজী শরিয়ত উল্লাহ ট্রেডার্স’-এর প্রতিনিধি মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে মাটি কাটার সঙ্গে ছাত্রদল সভাপতির লোকজন বা তাদের অনুসারী সাউদিরা জড়িত বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আসলে কিছুই বলার নেই। আমরা এখন নীরব। যে যেভাবে করছে, আমি সেভাবেই করছি। আমি ওখানে কবে গেছি, মনে নেই। খুব বেশি যাই না।

অভিযুক্ত ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তমিজ উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তবে এর কিছু সময় পর জনি দেওয়ান পরিচয়ে একজন বিষয়টি মীমাংসা বা বসে কথা বলার প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া তিনি জানান, সভাপতি তমিজ উদ্দিন তাকে ফোন করে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশনা দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও সহদপ্তর সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মাটি কাটার বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলায় চারটি প্যাকেজে পুকুর খননের কাজ চলছে। এর মধ্যে অনেকগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, কয়েকটি আংশিক অবস্থায় রয়েছে এবং কিছু পুকুরে প্রাথমিক পর্যায়ের খননকাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, পুকুর খনন করতে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে পুকুর দখলে রাখা ব্যক্তিদের প্রভাবও রয়েছে। এসব সমস্যা একে একে সমাধান করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারদেরও কিছু সমস্যা থাকে। পুকুরের পাড়ে দেওয়ার কথা এমন মাটি কিংবা অন্যান্য কাজের পর অতিরিক্ত থেকে যাওয়া মাটি অনেক সময় ঠিকাদারেরা গোপনে বিক্রির চেষ্টা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইনগত যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সে অনুযায়ী অতিরিক্ত মাটি বিক্রি বা অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...