গুলি করে দুই খুন, এরপর সন্ত্রাসীদের স্লোগান ‘আজ পুষ্পপাড়া স্বাধীন’

আব্দুস সালামের ভাই আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালো কালাম জানান, তার ভাই প্রায় ৩০ বছর ধরে পুষ্পপাড়া গরুর হাটের ইজারাদার ছিলেন। তিনি কোরআনের হাফেজ ছিলেন এবং কয়েকবার হজ করেছেন। হাট থেকে পাওয়া আয়ের অধিকাংশই মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করতেন।
তিনি বলেন, ‘জানি না কী কারণে আমার ভাই ও ভাগনেকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হাটের দখল নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছি। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা নিশ্চিত হলে মামলা করব।’
ইজারা বিরোধ ও চরমপন্থিদের দ্বন্দ্ব সামনে রেখে তদন্ত
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হাটের ইজারা ও পূর্বশত্রুতা থাকতে পারে। আমরা দুটি বিষয় গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করছি। তবে এখনও কোনো মামলা হয়নি। এলাকার পরিবেশ শান্ত আছে। নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।’
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, নিহত আব্দুস সালামের ভাই আবুল কালাম চরমপন্থি নেতা ছিলেন। হাটের ইজারা অথবা চরমপন্থিদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহত দুজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা
নিহত দুজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। আব্দুস সালামের শ্রমিক লীগের পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ পাবনা জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার। তিনি বলেন, আব্দুস সালাম পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আব্দুস সালামকে অন্য দলের নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তিনি স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, রিপন হোসেন আতাইকুলা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন পাবনা জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল গফুর।
পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুল হক বাবু বলেন, রিপন দলের জন্য নিবেদিত ছিলেন। দুই-তিন দিন আগে পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি ভাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে তিনি উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
একই বাজারে ১২ বছর আগে চার খুন
একই বাজারে আবারও প্রকাশ্যে জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের কাছে পুষ্পপাড়া বাজার যেন পুরোনো এক আতঙ্কের নাম।
এর আগে ২০১৪ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় এই বাজারেই প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি।

