নাটোরের গুরুদাসপুর: বাবা এমপি, ছেলেরা বেপরোয়া

বাবার জন্যই বেপরোয়া মিন্টু
গুরুদাসপুরের দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, আব্দুল আজিজ এমপি হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তাঁর দুই ছেলে। বড় ছেলে মিন্টু মাদকাসক্ত এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তা ছাড়া চাঁদাবাজি করে বিপুল টাকার মালিক হয়েছেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সুজাউদ্দৌলা সুজন বললেন, মিন্টু আগে থেকে রাজনীতি করতেন। তাঁর ছোট ভাই সোহাগ আগে কখনো রাজনীতি করেননি। তিনি ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে নামেন। এমপি হওয়ার পর আব্দুল আজিজ তাঁকেই বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। তিনি উপজেলা নিয়ন্ত্রণে নেন। এমনকি সোহাগকে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী করারও সিদ্ধান্ত নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিন্টু অপরাধজগতে চলে যান।’
মিন্টু গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর ভাই সোহাগ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সম্পাদক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক নেতা জানান, দুই ভাইয়ের দা-কুমড়া সম্পর্ক। এ জন্য মিন্টু বাড়ি ছেড়ে উপজেলা সদরে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগে ২৫-৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। ডিলারশিপ পেয়েছেন সোহাগের ভায়রা ভাইও। মিন্টু নিজে একটি ডিলারশিপ পেলেও টাকার ভাগ পাননি।
বিএনপির ওই নেতা বলেন, দুই উপজেলার সব সরকারি অফিস ছোট ছেলে সোহাগের নিয়ন্ত্রণে। ঠিকাদারিও করছেন বেনামে। এসব নিয়ে মিন্টুর সঙ্গে সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। সম্প্রতি একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দুই ভাই প্রকাশ্যেই বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মঞ্চের পেছনে গিয়ে তাঁরা একে অপরকে পিস্তল দেখান। এই পরিস্থিতিতে পুরস্কার বিতরণ না করেই মঞ্চ থেকে চলে যান এমপি আব্দুল আজিজ।
এ বিষয়ে জানতে গতকাল শুক্রবার সোহাগকে ফোন করা হলে তিনি ওই অনুষ্ঠানেই যাননি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘দলের ভেতরে বিরোধী পক্ষ আছে। জামায়াত-আওয়ামী লীগ আছে। তারা এখন নানা ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে। আসলে এগুলোর কোনো কিছুরই ভিত্তি নেই।’

