মুছে গেছে লাল রং, অজান্তেই বিষ পান করছে ৪ লাখ মানুষ

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, বছরের পর বছর পার হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ নলকূপের গায়ের সেই লাল চিহ্ন মুছে গেছে। নতুন করে চিহ্নিত না করায় এবং গভীর নলকূপ না থাকায় বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা লাল চিহ্নিত নলকূপের পানি পান ও রান্নাবান্নার কাজে আবারও ব্যবহার করছেন।
জানা গেছে, আর্সেনিক ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প হিসেবে সরকারিভাবে সুপেয় পানির জন্য নির্দিষ্ট গভীরতায় (৬০০ থেকে ১,০০০ ফুট) গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলায় ইতোমধ্যেই প্রায় ৭২০০টি সরকারি গভীর নলকূপ সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল্য।
উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকার বাসিন্দা আজিজ আহমেদ বলেন, কোন নলকূপে এক সময় লাল দাগ দেওয়া হয়েছিল, তা এখন আর চেনার উপায় নেই। নতুন প্রজন্মের অনেকে জানেই না কোনটির পানি ঝুঁকিপূর্ণ, ফলে তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে অজান্তেই তাদের শরীরে ঢুকছে বিষাক্ত আর্সেনিক।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোবারক হোসেন বলেন, আর্সেনিক হলো একটি স্লোপয়েজন। আর্সেনিক আগের দিনে রাজা বাদশাদের মেরে ফেলার কাজে লাগাতো। আর্সেনিকে যে আক্রান্ত হবে, তার জীবন শেষ হয়ে যাবে চিকিৎসা করাতে করাতে। এটি শরীরে গেলে ব্রেইন, হার্ট, কিডনিসহ শরীরের সকল অঙ্গে ক্যান্সার হতে পারে। আর্সেনিকের প্রাথমিক লক্ষণ চর্মরোগ সৃষ্টি হয়। তাই সবাইকে বিশুদ্ধ পানি পান করার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী সজিব চন্দ্র দাস বলেন, এলাকায় নিরাপদ খাবার পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি গভীর নলকূপের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। চাহিদার তুলনায় আমরা খুব সল্প বরাদ্দ পাই। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বৃষ্টির পানি ধারণ এবং প্রক্রিয়াজাত পৃষ্ঠীয় পানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের কাছ থেকে ডাটা নিয়ে আমরা আবারও মার্কিং এর ব্যবস্থাটা করব। নতুন নলকূপ বরাদ্দর পাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।

