আইসিসির বিশেষ দায়িত্বে বাংলাদেশের আম্পায়ার গাজী সোহেল

গ্লেনরাইটের মতে, বিশ্বের পাঁচটি অঞ্চল থেকে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের একত্র করে নতুন কর্মসূচি পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোর আম্পায়ারদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন জিম্বাবুয়ের আন্তর্জাতিক আম্পায়ার ও লেভেল-২ মাস্টার এডুকেটর ল্যাংটন রুসেরেও। তার মতে, ভালো আম্পায়ার হতে শুধু ক্রিকেটের আইন জানাই যথেষ্ট নয়। চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস ও বিচক্ষণতাও প্রয়োজন। নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের আম্পায়ারদের সেই দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, তাদের বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। শুধু আম্পায়ারিংয়ের ফাউন্ডেশন, লেভেল-১ ও টিউটর লেভেল-১ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬ হাজার। নতুন লেভেল-২ কোর্সের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশের আম্পায়ারিংয়ে পরিচিত মুখ গাজী সোহেল। দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০১২ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০১৮ সালের নভেম্বরে আইসিসির ইন্টারন্যাশনাল প্যানেলে জায়গা পান এই বাংলাদেশি আম্পায়ার।
বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে সোহেলের। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি। সেবার দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের এই প্রতিনিধি।
চলতি বছরের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সোহেল। বাংলাদেশের আরেক আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের সঙ্গে ২৪ সদস্যের আম্পায়ার প্যানেলে জায়গা পেয়েছিলেন তিনি।
তবে শরফুদ্দৌলা আইসিসির এলিট প্যানেলের সদস্য হলেও সোহেল রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল প্যানেলে। নতুন মাস্টার এডুকেটর স্বীকৃতির ফলে তার মাঠে আম্পায়ারিংয়ের প্যানেল পরিবর্তন হয়নি। বরং ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

