লোগো
Advertisement

আইলার পর ছেড়ে যাওয়া গাবুরাতেই চিরনিদ্রায় মরিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
Advertisement

২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর গাবুরা ছেড়েছিলেন মরিয়মের বাবা-মা। সময়ের ব্যবধানে সেই গাবুরাতেই পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম (১৯)।
সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার সরদার পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে মরিয়মের দাফন সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিরুদ্ধ রায়।
এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ করা একটি ফ্ল্যাটের কক্ষ থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঢাকায় ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরিয়মের মরদেহ সাতক্ষীরায় নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পার হয়ে ট্রলারে করে মরদেহটি গাবুরার সরদার পাড়ায় পৌঁছায়।
এ সময় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে ছিলেন।
মরদেহ গাবুরায় পৌঁছানোর পর পশ্চিমপাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে মরিয়মের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা জানাজায় ইমামতি করেন। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার আগে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।
দাফনের আগে মরিয়মের স্বজনরা তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মরিয়মের বড় চাচি মুন্নী আক্তার বলেন, “আমাদের মেয়ে খুবই নরম ও ভদ্র ছিল। অনেক মেধাবীও ছিল। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, আমরা জানি না। মৃত্যুর রহস্য এখনো পরিষ্কার হয়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
মরিয়মের স্বজন ইয়াহিয়া বলেন, রোববার রাত ৭টার দিকে তারা মরিয়মের আত্মহত্যার খবর জানতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান তিনি।
মরিয়মের জন্মস্থান চৌদ্দরশি গ্রামে বর্তমানে তার পরিবারের কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। তবে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রামটিসহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।
এদিকে গভীর রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে সীমিতসংখ্যক স্বজনের উপস্থিতিতে মরিয়মের দাফন সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে চাননি।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় বলেন, নিরাপত্তাজনিত কোনো বিষয় ছিল না। দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দাফন-কাফনের কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন। পরে ভোররাতে তারা শ্যামনগরে ফিরে যান।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন।
মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বিষয় ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...