জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর জনগণের কষ্ট হবে স্বীকার করে পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছুটা ‘কাইন্ড’ বা সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সরকার জনঅসন্তোষের মুখে পড়ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং সামনে আরও কষ্ট হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জ্বালানির দামের প্রভাব শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে সেখানকার রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রভাব নিয়ে সরকারেরও ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইএমএফের শর্তের কারণে দাম বাড়েনি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো নির্দিষ্ট শর্ত বা চাপ নেই বলে দাবি করেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আইএমএফ সাধারণভাবে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করে। তবে জনগণের কল্যাণে সরকার সব ক্ষেত্রে আইএমএফের পরামর্শ বা নীতিমালা হুবহু অনুসরণ করছে না। বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতেও সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত রয়েছে।
ভর্তুকির পাশাপাশি স্বাস্থ্য-শিক্ষায় ব্যয়ের ভারসাম্য
জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিলে অন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতেও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সরকারের জন্য সব দিক বিবেচনা করে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, শুধু জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি দেখলে হবে না; রাষ্ট্রের অন্যান্য মৌলিক দায়িত্বও একই সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে।
পে-স্কেল ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গ
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তার ভাষ্য, ২০১৫ সালের পর নতুন করে পে-স্কেল সংশোধন হয়নি। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে।
নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ওএমএস ও টিসিবির মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু রাখার কথা তুলে ধরেন।
এর আগে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্যেও জাহেদ উর রহমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর কথা জানিয়েছিলেন।
ককটেল ও বাসে আগুনের বিষয়ে কঠোর বার্তা
দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই দাবি করে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন দেওয়া কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।
এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।


