জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলে সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনে ট্রাক ও পিকআপের ভাড়া বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে তাদের। পরিবহন ও অন্যান্য বাড়তি খরচ সমন্বয়ের জন্য খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
রাজধানীর খিলক্ষেত বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সবজির দামে পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলসহ দূরের জেলাগুলো থেকে পণ্য আনতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
খিলক্ষেত বাজারে টাঙ্গাইল থেকে মাছ নিয়ে আসা এক পিকআপচালক জানান, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় পণ্য নিয়ে আসতে তার প্রায় ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয়। জ্বালানির দাম বাড়ায় একই দূরত্বে পণ্য পরিবহনে আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। এই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদনস্থল থেকে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত একাধিক ধাপ রয়েছে। প্রতিটি ধাপে পরিবহন খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়ে পাইকারি ও খুচরা দামে। আড়তদার ও পাইকাররা নিজেদের অতিরিক্ত ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে সমন্বয় করায় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।
এদিকে বাজারে পণ্য কিনতে এসে বাড়তি দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বাড়ায় সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যেন ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। বাজারে পণ্যের প্রকৃত দাম ও পরিবহন ব্যয়ের বিষয়টি যাচাই করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভোক্তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে পড়া স্বাভাবিক হলেও এর সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।


