লোগো
Advertisement

বারাদিতে যত্রতত্র বর্জ্য, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
Advertisement

মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদি বাজারের অদূরে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মোমিনপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের কাছাকাছি সড়কের পাশে জমে থাকা পচা ও বাসি বর্জ্য থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারাদি বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, পোল্ট্রি ব্যবসায়ীসহ কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে তাদের বর্জ্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানে না ফেলে মহাসড়কের পাশে ফেলে যাচ্ছে। এসব বর্জ্য দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় তা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে সড়কসংলগ্ন পুরো এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ও উচ্ছিষ্ট পড়ে রয়েছে। পচা খাবার ও অন্যান্য বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের অনেককেই নাক-মুখ ঢেকে যেতে দেখা যায়।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে পাশের মোমিনপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় তাদের এই দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, সকালে স্কুলে আসার সময় সড়কের পাশের দুর্গন্ধে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। অনেক সময় ক্লাসে বসেও সেই দুর্গন্ধের প্রভাব অনুভূত হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এভাবে বর্জ্য জমে থাকা শুধু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করে জায়গাটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে এভাবে বর্জ্য ফেলা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষকেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, মহাসড়কের পাশ থেকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে পোল্ট্রি, হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...