লোগো
Advertisement

ইরান যুদ্ধের ক্ষতি সামলাতে পশ্চিম এশিয়ায় ৫০০ কোটি ডলারের তহবিল চায় যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
Advertisement

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিম এশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং তেল পরিবহনে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে ৫০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ও পশ্চিম এশিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নথিও সংবাদমাধ্যমটির হাতে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সাত মাসের সংঘাতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তেল পরিবহনব্যবস্থা, পাইপলাইন ও শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অবকাঠামো পুনর্গঠনে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কয়েক হাজার কোটি ডলারের একটি যৌথ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৫০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। একই পরিমাণ অর্থ পশ্চিম এশিয়ার আটটি দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, ইরাক ও জর্ডানের কাছ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এ উদ্যোগের নাম দিয়েছে ‘পার্টনারশিপ ফর অ্যালাইড ট্রাস্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ (প্যাক্ট)।
তবে তহবিল গঠনের বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। এর শর্ত ও কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো কখন এই উদ্যোগে যুক্ত হবে, কিংবা শেষ পর্যন্ত তারা এতে স্বাক্ষর করবে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
প্রস্তাবিত উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও ভিন্ন মত রয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর জ্বালানি পরিবহনের নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের মিত্রদের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের বিষয়টিও সামনে আনতে চাইছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ার কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি বা স্থায়ী সমঝোতা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনা পুনর্নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে নির্মিত অবকাঠামোতেও ইরানের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি থেকে যাবে।
স্বাধীন আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ড অ্যাসের সিনিয়র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিলাল সাব বলেন, এ পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপেই ঝুঁকি রয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালির ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নির্ভরতার মাত্রা এক নয়।
তার মতে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো বিকল্প তেল পরিবহন রুট ব্যবহারের সুযোগ পেলেও কুয়েত ও কাতারের মতো তুলনামূলক ছোট দেশ এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় যুদ্ধের কারণে সেখানে কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু পশ্চিম এশিয়ায় নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। সেই ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা ও অবকাঠামো তৈরির বিষয়টি সামনে আনছে ওয়াশিংটন।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...