মেঘনা নদীর ভাঙনে এক যুগ আগে বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়েছিল পরিবারটি। সেই ক্ষত এখনও শুকায়নি। এর মধ্যে পরিবারের একমাত্র সন্তান ১৫ বছরের রিয়াদ আবারও কঠিন সংকটের মুখে। শরীরে ফিরে এসেছে ক্যানসার। চিকিৎসার ব্যয় জোগাতে গিয়ে এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম তার চিকিৎসা।
পরিবারের দাবি, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে রিয়াদ সুস্থ হয়ে উঠতে পারে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে কেমোথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসায় যে অর্থ প্রয়োজন, তা জোগাড় করা এখন পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজানসহ দেশের সামর্থ্যবান মানুষের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়েছেন রিয়াদের মা-বাবা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে মাত্র চার বছর বয়সে রিয়াদের গলায় টিউমার ধরা পড়ে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্যানসার শনাক্ত হয়। তখন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় তার চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসার পেছনে পরিবারের সঞ্চয় করা প্রায় তিন লাখ টাকাও ব্যয় হয়ে যায়।
একই বছর মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় তাদের বসতবাড়ি। ভিটেমাটি হারিয়ে পরিবারটি হয়ে পড়ে গৃহহীন। এরপর রিয়াদের বাবা ফেনী শহরের একটি গরুর খামারে মাসে ১২ হাজার টাকা বেতনে কাজ শুরু করেন। সেই সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের চিকিৎসার খরচ ও দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য হয়নি তাদের।
এর মধ্যেই রিয়াদ ফেনী শহরের একটি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে স্বাভাবিক থাকার পর চলতি বছরের মার্চে হঠাৎ তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয় সে।
পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এবং দেশের বাইরে করা বায়োপসি রিপোর্টে রিয়াদের পেট ও তলপেটে ক্যানসার পুনরায় শনাক্ত হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ক্যানসার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রিয়াদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে একটি করে কেমোথেরাপি দিতে হচ্ছে তাকে। এতে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত পাঁচ মাস ধরে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে চিকিৎসা চালানো হয়েছে। কিন্তু এখন আর সেই সহায়তাও পর্যাপ্ত হচ্ছে না। অর্থের অভাবে আগামী দিনের চিকিৎসা চালানো নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৩ নম্বর চর লরেন্স ইউনিয়নে খালার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে রিয়াদ ও তার পরিবার। সেখানে থেকেই চিকিৎসার জন্য অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করছেন স্বজনেরা।
রিয়াদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছি। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা ছিল, সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার একমাত্র সন্তান আবার মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। ডাক্তার বলেছেন, চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে সে সুস্থ হতে পারে। আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে স্থানীয় এমপি ও হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান স্যারসহ দেশবাসীর কাছে সাহায্য চাই।”
রিয়াদের খালা মরিয়ম আক্তার বলেন, রিয়াদের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে তারা আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে মানুষের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। এতদিন যে অর্থ পাওয়া গেছে, তা দিয়ে কেমোথেরাপি চালানো হয়েছে। কিন্তু আগামী সপ্তাহে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কেমোথেরাপি দেওয়ার মতো অর্থও এখন তাদের হাতে নেই।
তিনি বলেন, “রিয়াদকে বাঁচাতে আমরা সবার কাছে সহযোগিতার আবেদন করছি। সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ পাশে দাঁড়ালে তার চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।”
রিয়াদের চিকিৎসায় সহায়তা করতে আগ্রহীরা পরিবারের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে পারেন।
সহায়তার ঠিকানা:
অ্যাকাউন্ট নম্বর: ৭৮৬৩২৪১০০৩৭৪৩৮৯১
ব্যাংক: ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (UCB)
শাখা: কমলনগর শাখা


